বিতর্কিত সিদ্ধান্তে জার্মানির বিদায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক:প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে জার্মানি। তবে টাইব্রেকারের আগে অতিরিক্ত সময়ে দলটির একটি জয়সূচক গোল বিতর্কিতভাবে বাতিল হওয়া নিয়ে ফুটবল…
ক্রীড়া প্রতিবেদক: নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ১–১ সমতা। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের স্নায়ুচাপ, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গোল-পাল্টা গোলের এক অবিশ্বাস্য চিত্রনাট্য। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বুক চিতিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করল বিশ্বকাপের নবাগত দল কেপ ভার্দে। তবে শেষ পর্যন্ত ১২০ মিনিটের দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৫ গোলের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ৩–২ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) পা রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা।
আমেরিকার মায়ামির ঐতিহ্যবাহী হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই নক-আউট ম্যাচে শুরু থেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেয় আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট মেসি-লাউতারোদের কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। নবাগতদের এমন জমাট রক্ষণ ও ইতিবাচক ফুটবলের কারণে প্রথমার্ধের প্রথমাংশ কোনো গোল ছাড়াই হাইড্রেশন ব্রেকে যায় দু’দল।
তবে বিরতির আগেই ডেডলক ভাঙেন ফুটবলের মহাদক্ষিণ লিওনেল মেসি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের চমৎকার এক পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি (১-০)। চিপ শটের এই জাদুকরী গোলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব মিলিয়ে নিজের ২০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এলএমটেন (LM10), যা চলতি আসরে তাঁর ৭ম গোল। এই এক গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে স্টেডিয়ামের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে আর্জেন্টিনার দেয়াল খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন লারোস দুয়ার্ত (১-১)। ম্যাচে সমতা ফেরার পর আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে লিওনেল মেসি ডি-বক্সের ভেতর একা বল নিয়ে ঢুকে পড়লেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় মেসির শট ঠেকিয়ে দেন। এর ঠিক ১০ মিনিট পর, ৭৩ মিনিটে মেসির নেওয়া আরও একটি বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক অসাধারণ সেভে নসাৎ করেন ভোজিনিয়া। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা।
ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই, অর্থাৎ ৯৩ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণ থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও লিড এনে দেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (২-১)। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি লড়াকু কেপ ভার্দে। ১০৪ মিনিটে ডি-বক্সের বেশ দূর থেকে অবিশ্বাস্য এক দূরপাল্লার শটে জাল খুঁজে নেন সিডনি ক্যাব্রাল। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ১১১ মিনিটে ভাগ্যের পরিহাসে কপাল পোড়ে কেপ ভার্দের। বাঁ দিক থেকে লিওনেল মেসির নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার ভেসে আসে কেপ ভার্দের বক্সে। সেটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে নিজেদের জালে জড়িয়ে যায়। এই দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় এই গোলের ওপর ভর করেই মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। হেরেও মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শকের মন জয় করে মাঠ ছাড়ে টুর্নামেন্টের সারপ্রাইজ প্যাকেজ কেপ ভার্দে।