কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বরিশালে মামলা
মো. জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল: বরিশালে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ২৪৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।…
মো: জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল: বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর যাতায়াত সহজ ও যাত্রীবান্ধব করতে হলুদ অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে অধিকাংশ চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, নারী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। এই ভোগান্তি থেকে বাঁচতে বরিশালবাসী অবিলম্বে নগরীতে ‘সিটি বাস’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, একই গন্তব্যে একেক চালক একেক ধরনের ভাড়া দাবি করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৫ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ার কথা বললে চালকরা যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ভোক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লঞ্চঘাট থেকে নথুল্লাবাদ ২৫ টাকা, লঞ্চঘাট থেকে চৌমাথা ২০ টাকা এবং লঞ্চঘাট থেকে বটতলা বা কাছাকাছি যেকোনো স্থানে নামলেই ১৫ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে সদর রোড থেকে রূপাতলী বা নথুল্লাবাদ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। কোনো যাত্রী এর প্রতিবাদ করলে অটোরিকশা চালকদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চালক সরাসরিই জানান, তারা সিটি কর্পোরেশনের নতুন তালিকা মানেন না এবং নিজেদের নির্ধারিত নিয়মেই ভাড়া আদায় করবেন।
অভিযোগ রয়েছে, রূপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ, সদর রোড, চৌমাথা, বটতলা, হাসপাতাল এলাকা, নতুন বাজার, বান্দ রোড, লঞ্চঘাট, কাশীপুর ও বগুড়া রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই অনিয়ম সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে অফিস শুরু ও শেষের সময়, বৃষ্টি, যানজট কিংবা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।
ভোগান্তিতে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী জানান, প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ায় মাস শেষে তাদের আয়ের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু ভাড়া নির্ধারণ করলেই হবে না, সেটি কার্যকর করার জন্য নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি। অধিকাংশ অটোরিকশায় ভাড়ার তালিকা টাঙানো নেই। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যাত্রীদের অভিযোগ নেওয়ার জন্য একটি কার্যকর হটলাইন বা অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা দরকার। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এই অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।
তা ছাড়া, বরিশাল নগরীতে চলাচলকারী অধিকাংশ হলুদ অটোরিকশার কোনো লাইসেন্স নেই। এই অবৈধ অটোরিকশাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত আটকে দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। কাগজে-কলমে ভাড়া নির্ধারণ করে দায়িত্ব শেষ না করে, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।