ফরিদপুর জেলা শহরে বিভিন্ন দাবিতে গভীর রাতে ঝটিকা মশালমিছিল বের করেছিল বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের আকস্মিক ধাওয়ার মুখে ব্যানার ও মশাল ফেলে রেখেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হন মিছিলকারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যানার ও সাতটি পরিত্যক্ত মশাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়
গতকাল রাত ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াকের ফেসবুক আইডি থেকে ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ মশাল হাতে ব্যানার নিয়ে মুজিব সড়কে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টেপাখোলা হাট এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে দিয়ে মুজিব সড়ক হয়ে লেকপাড় মোড়ের দিকে এগোচ্ছিল। ঠিক সেই সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া জেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে মিছিলকারীদের ধাওয়া দেন। তীব্র বাধার মুখে টিকতে না পেরে মিছিলকারীরা ব্যানার ও মশাল রাস্তায় ফেলেই দিকবিদিক পালিয়ে যান।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াকের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার এই বিষয়ে বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের নামে গভীর রাতে মশালমিছিল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছিল কিছু দুর্বৃত্ত। আমরা স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত ও বাধা দেই। বাধার মুখে তারা সবকিছু ফেলে পালিয়ে যায়। পরে আমরা আইন নিজের হাতে না তুলে মশাল ও ব্যানার থানায় জমা দিয়েছি।”
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে টেপাখোলা এলাকায় একটি মশালমিছিল বের করা হয়েছিল। তবে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যানার ও সাতটি মশাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।