ধর্ম

মা-বাবার অসম্মতিতে বিয়ে করা কি জায়েজ? শরিয়তের বিধান

ঢাকা: ছেলে-মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও উপযুক্ত হলে এবং উত্তম প্রস্তাব পাওয়া গেলে বিবাহ সম্পন্ন করতে দেরি করা কিছুতেই উচিত নয় বলে ইসলামি শরিয়তে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদি এই বিলম্বের কারণে সন্তান কোনো অন্যায় বা গুনাহের কাজে জড়িত হয়, তবে সেই গুনাহের দায়ভার পিতা-মাতার ওপরও বর্তাবে।

বিবাহকে সহজ করার জন্য ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

বিবাহের প্রস্তাব উপযুক্ত হলে তা দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা যে ছেলের দ্বীনদারি ও চরিত্রের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পার সে যদি (বিয়ের) প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার কাছে বিয়ে দাও। যদি তা না কর, তাহলে পৃথিবীতে মহা ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে।” (তিরমিজি-১০৮৪)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট, উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর প্রস্তাব এলে ধর্মীয় ও চারিত্রিক গুণ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিবাহ দেওয়া পারিবারিক ও সামাজিক শান্তির জন্য অপরিহার্য।

ইসলামে বিবাহকে পারিবারিকভাবে এবং প্রকাশ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করাকে পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিধান: ফুকাহায়ে কেরামের মতে, কমপক্ষে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনে। (আদ দুররুল মুখতার ৩/৫৬)

মা-বাবার অসম্মতিতে বিয়ে: কখন অনুমতি আছে?

যদিও ইসলাম মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে, তবুও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তানের কল্যাণের জন্য মা-বাবার যুক্তিহীন অসম্মতি অগ্রাহ্য করা যেতে পারে।

ফুকাহায়ে কেরামের মতে, নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে মা-বাবার আপত্তি অগ্রাহ্য করা যেতে পারে:

  • শরয়ি সক্ষমতা: বিয়ের জন্য শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সক্ষমতা থাকা।
  • গুনাহে জড়ানোর আশঙ্কা: বিয়ে না করলে গুনাহে জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা থাকা।
  • যুক্তিসঙ্গত আপত্তি নয়: মা-বাবার আপত্তি যদি যুক্তিহীন হয় (যেমন বংশমর্যাদা বা গোত্রগত বিদ্বেষের কারণে)।
  • শরিয়তসম্মত প্রস্তাব: বিয়ের প্রস্তাবটি শরিয়তসম্মত হওয়া।

 

ইমাম নববি (রহ.) বলেছেন, “যখন বিয়ে ফরজ বা ওয়াজিব পর্যায়ের হয় এবং মা-বাবার আপত্তি যুক্তিহীন হয়, তখন তাদের অসম্মতিকে অগ্রাহ্য করা যাবে।” (আল-মাজমু: ১৬/৩৪২)

পাপ থেকে বাঁচতে বিয়ে: মা-বাবা কষ্ট পেলে গুনাহ হবে কি?

যদি কোনো ছেলে পাপাচার থেকে বাঁচতে এবং ইসলামের বিধান মেনে বৈধভাবে পরিবারের অমতে বিয়ে করে এবং এতে মা-বাবা কষ্ট পান, তবে এই ক্ষেত্রে ছেলে গুনাহগার হবে না। কারণ, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য ইসলামের বিধান অনুসরণ করেছে।

Related News

মনোযোগহীন বা প্রাণহীন নামাজের চেয়ে কি নামাজ একেবারে ছেড়ে দেওয়াই ভালো?

নামাজে মনোযোগ বা খুশু না থাকলে কি নামাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত? জেনে নিন কেন মনোযোগহীন নামাজও নামাজ ত্যাগ করার চেয়ে কোটি গুণ উত্তম।

হেদায়েত লাভ ও তা ধরে রাখার উপায়

হেদায়েত আল্লাহর এক বিশেষ দান। কোরআনের আলোকে হেদায়েত লাভ এবং তার ওপর অবিচল থাকার কার্যকরী উপায়সমূহ নিয়ে বিশেষ জীবনঘনিষ্ঠ প্রতিবেদন।

ইসলামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মর্যাদা ও ইতিহাস

শারীরিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ইসলামি ইতিহাসে সমাজ ও জ্ঞানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বহু মনীষী। জানুন তাঁদের অবদান ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।

উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ও ভাতা দিতে নতুন নীতিমালা জারি

দেশের মসজিদ, মন্দির ও গির্জার সেবকদের জন্য সম্মানী, উৎসব ভাতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে ‘সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ জারি।

বরিশাল এবাদুল্লাহ মসজিদে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল শুরু

বরিশাল চকবাজার জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক শব্দমিছিলে।

জাতীয় ইমাম সমাজের আলেম সম্মেলন ও বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর ডাক

জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশ ২০২৬, মাওলানা বেলায়েত হোসাইন আল-ফিরোজী, ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন ৮ সেপ্টেম্বর, ঢাকার থানা কমিটি পুনর্গঠন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ, রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান কলাম, দৈনিক শব্দমিছিল সম্পাদকীয়

পবিত্র কাবা শরিফে নতুন কিসওয়া পরানো হয়েছে: হিজরি নববর্ষ ২০২৬

নতুন হিজরি বছর উপলক্ষে কাবা শরিফে নতুন গিলাফ বা কিসওয়া পরানো হয়েছে। ১৫০ জন কারিগরের ১১ মাসের শ্রমে তৈরি এই গিলাফে ব্যবহার করা হয়েছে সোনা ও রুপার প্রলেপ।

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা: আত্মশুদ্ধি ও মানবতার জয়গান

কুরবানির মূল চেতনা লুকিয়ে আছে ইসলামের মহান নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর এক অবিস্মরণীয় ত্যাগ ও পরীক্ষার মধ্যে। মহান আল্লাহর নির্দেশে নিজের প্রিয়তম পুত্রকে কুরবানি করার যে চরম সিদ্ধান্ত হযরত ইব্রাহিম (আ.) নিয়েছিলেন, এবং পিতার সিদ্ধান্তে পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) যেভাবে হাসিমুখে আত্মসমর্পণ করেছিলেন—তা পৃথিবীর ইতিহাসে আনুগত্য ও ত্যাগের এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত।

Search