আজ পবিত্র শবে বরাত ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল সারাদেশ
৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ দোয়া ও ওয়াজ মাহফিলের সময়সূচি।
ঢাকা: ছেলে-মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও উপযুক্ত হলে এবং উত্তম প্রস্তাব পাওয়া গেলে বিবাহ সম্পন্ন করতে দেরি করা কিছুতেই উচিত নয় বলে ইসলামি শরিয়তে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদি এই বিলম্বের কারণে সন্তান কোনো অন্যায় বা গুনাহের কাজে জড়িত হয়, তবে সেই গুনাহের দায়ভার পিতা-মাতার ওপরও বর্তাবে।
বিবাহকে সহজ করার জন্য ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
বিবাহের প্রস্তাব উপযুক্ত হলে তা দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা যে ছেলের দ্বীনদারি ও চরিত্রের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পার সে যদি (বিয়ের) প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার কাছে বিয়ে দাও। যদি তা না কর, তাহলে পৃথিবীতে মহা ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হবে।” (তিরমিজি-১০৮৪)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট, উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর প্রস্তাব এলে ধর্মীয় ও চারিত্রিক গুণ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিবাহ দেওয়া পারিবারিক ও সামাজিক শান্তির জন্য অপরিহার্য।
ইসলামে বিবাহকে পারিবারিকভাবে এবং প্রকাশ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করাকে পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিধান: ফুকাহায়ে কেরামের মতে, কমপক্ষে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনে। (আদ দুররুল মুখতার ৩/৫৬)
যদিও ইসলাম মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে, তবুও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তানের কল্যাণের জন্য মা-বাবার যুক্তিহীন অসম্মতি অগ্রাহ্য করা যেতে পারে।
ফুকাহায়ে কেরামের মতে, নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে মা-বাবার আপত্তি অগ্রাহ্য করা যেতে পারে:
ইমাম নববি (রহ.) বলেছেন, “যখন বিয়ে ফরজ বা ওয়াজিব পর্যায়ের হয় এবং মা-বাবার আপত্তি যুক্তিহীন হয়, তখন তাদের অসম্মতিকে অগ্রাহ্য করা যাবে।” (আল-মাজমু: ১৬/৩৪২)
যদি কোনো ছেলে পাপাচার থেকে বাঁচতে এবং ইসলামের বিধান মেনে বৈধভাবে পরিবারের অমতে বিয়ে করে এবং এতে মা-বাবা কষ্ট পান, তবে এই ক্ষেত্রে ছেলে গুনাহগার হবে না। কারণ, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য ইসলামের বিধান অনুসরণ করেছে।