সম্পাদকীয়

রাজনৈতিক সদিচ্ছায় সম্ভব সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সহিংসতামুক্ত পরিবেশ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য এক স্পষ্ট বার্তা। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সম্পূর্ণরূপে সহিংসতামুক্ত করা সম্ভব।

জাতীয় নির্বাচনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সেই শান্তির ধারা বজায় রাখার যে তাগিদ নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, তা নাগরিক সমাজ ও সাধারণ ভোটারদের মনে প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষমতার লড়াই ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি থাকার কারণে সচরাচর সহিংসতার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও প্রার্থী বাছাইয়ের সচেতনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ বেশি থাকায় অনেক সময় মনোনয়ন বা প্রভাব বিস্তার কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেবল মনোনয়ন প্রাপ্তিই বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না; জয় নির্ধারিত হবে জনগণের অবাধ ও প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংস আচরণ বা আচরণবিধি লঙ্ঘনে শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে।  অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে কমিশনের সতর্ক উপস্থিতি থাকতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের একমাত্র মাধ্যম হলো কারচুপি ও ভয়ভীতিহীন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

স্থানীয় সরকার হলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর প্রাথমিক ভিত্তি। তাই এই নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, সহিংসতামুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করা জাতীয় স্বার্থেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা, প্রকারীদের দায়িত্বশীলতা এবং নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যমান নিরপেক্ষতাই পারে একটি স্থিতিশীল ও সুসংহত স্থানীয় শাসনব্যবস্থা উপহার দিতে।

লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।

Related News

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ: সাইবার নিরাপত্তায় লাল সংকেত নাকি সময়োচিত সতর্কতা? -রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধের নেপথ্য কারণ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা-বাগেরহাট সফর সম্পন্ন; আঞ্চলিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সমাপ্তি, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

মোংলা থেকে উপকূলের জাগরণ — প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন সফর নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশ্লেষণাত্মক কলাম।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার — সম্প্রীতির বাংলাদেশ রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

মহানবমীতে তিন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক পূজা মণ্ডপ সফর ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

নাগরিকত্বই পরিচয়, ধর্ম নয় – তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের বার্তা। -রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

প্রধানমন্ত্রীর দুর্গোৎসব সফর, সেনাবাহিনীতে ওআরওপি সুবিধা এবং বর্তমান রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের নিবন্ধ।

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের তাৎপর্য- রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার দিক নির্দেশনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের নিবন্ধ।

ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিন আজ, ২০২৭ সালের চেয়ারম্যানশিপ পেল পাকিস্তান

থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভা শেষ। ২০২৭ সালের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যানশিপ পেল পাকিস্তান। ব্যাংকক থেকে রিপোর্ট।

ব্যাংককে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: সংস্কারের শর্তে বাংলাদেশের সামনে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ-রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

Search