মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সংকটে জ্বালানি খাত অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু: অর্থমন্ত্রী
ফিকি-র আলোচনা সভায় দেশের জ্বালানি খাত, সৌর বিদ্যুৎ ও এনবিআর সংস্কার নিয়ে ফোরেন ইনভেস্টরদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিলেন অর্থ মন্ত্রী।
ঢাকা: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজারেরও বেশি শিশু নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুই হাজারের বেশি শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এই পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের জিডি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তারা নিজের থেকেই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এই হিসাব অনুযায়ী এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
বয়সভিত্তিক নিখোঁজ ও উদ্ধারের চিত্র:
পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিখোঁজ শিশুদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—
০ থেকে ৯ বছর বয়সসীমা: এই বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে ৪৭৪টি জিডি হয়েছে, যার মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো খোঁজ নেই ৬৮ জনের। এই বয়সের শিশুরা সাধারণত অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে অথবা নিজের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় বিপদে পড়ে।
১০ থেকে ১৭ বছর বয়সসীমা: কিশোর ও বয়ঃসন্ধিকালের এই বয়সসীমায় নিখোঁজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হলেও ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার কারণসমূহ:
কিশোর-কিশোরীদের (১০-১৭ বছর) ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে চলে যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে নানা মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে—পরিবারের সঙ্গে অভিমান, পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জায় পালিয়ে যাওয়া, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা, পারিবারিক কলহ এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের নেতিবাচক প্রভাব।
অনলাইন জিডিতে বাড়ছে পরিসংখ্যান:
পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, পুলিশি সেবা জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমানে অনলাইন জিডির সুব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে নিখোঁজসংক্রান্ত জিডির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে রেকর্ড হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজসংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনেক প্রতিবেদনে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরে আসার পরবর্তী আপডেটগুলো উল্লেখ করা হয় না, যার ফলে জনমনে এক ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।