নেত্রকোনা: নেত্রকোনার মদন পৌর সদরে ফজরের নামাজ শেষে চা খাওয়ার কথা বলাকে কেন্দ্র করে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের এলোপাতাড়ি কোপে এলাহি মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ইয়াছিন মিয়াকে (২০) হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৬টার দিকে পৌর সদরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশকিপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত এলাহি মিয়ার মূল বাড়ি মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের মাঝপাড়ায় হলেও তাঁরা বর্তমানে আশকিপাড়ায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাと সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজ ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান এলাহি মিয়া। নামাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে তিনি নিজেই রান্নাঘরে চা তৈরি করেন। এ সময় ঘরে থাকা ছেলে ইয়াছিন মিয়াকেও চা পান করার জন্য ডাকেন তিনি। পিতার এই আহ্বানেই হুট করে উগ্র হয়ে ওঠে ইয়াছিন। সে ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে পেছন দিক থেকে বাবা এলাহি মিয়াকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
বাবার আত্মচিৎকারে পুত্রবধূ জেরিন আক্তারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুটে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় এলাহি মিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের পুত্রবধূ জেরিন আক্তার জানান, ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। ঘটনার দিন সকালে বাবা তাঁকে চা খাওয়ার কথা বললেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানান, অভিযুক্ত ইয়াছিন গত দুই দিন ধরে কোনো খাবার-দাবার খায়নি বলে জানা গেছে। সকালে বাবা চা খাওয়ার কথা বলা মাত্রই সে পিছন দিক থেকে বটি দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ইয়াছিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ছেলেটি প্রকৃতপক্ষেই মানসিক রোগী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “সে মানসিক রোগী কি না, তা একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই নিশ্চিত করে বলতে পারবেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”