ইরানকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহে আইএমইসি করিডোরে ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন
ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক অস্থিরতার মধ্যে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বা আইএমইসিতে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী (জেআই)। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে ফোন করে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ জানানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
মুলতানে এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার রাতে তাঁকে ফোন করে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ জানান। এরপর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, তারা প্রতিবাদ বা লংমার্চের দাবি থেকে সরে যাচ্ছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আলোচনায় যুক্ত হওয়ায় সরকারকে একটি সুযোগ দিতে চান তারা।
তিনি জানান, শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে পাকিস্তানে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে দলের দাবিগুলো তুলে ধরবেন।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, বৈঠকে সরকার পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিলে বিষয়টির সমাধানের পথ তৈরি হবে। অন্যথায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে একই শক্তিতে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের কর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ক্যাম্প ও অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতে ইসলামী গত ৭ আগস্ট থেকে পেট্রোলিয়াম লেভি ও জ্বালানির মূল্য নিয়ে আন্দোলন করছে। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ৪২টি স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম লেভি কমানো নিয়ে কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে বলে জানান হাফিজ নাঈম।
তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে সরকার জামায়াতের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি। দলটির পক্ষ থেকে পেট্রোলিয়াম লেভি পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, তাঁদের আন্দোলনের কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই; বরং এটি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ে।
১৭ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী ফুয়েল রিলিফ স্কিমেরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। এই কর্মসূচিতে দুই ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারে ১০০ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে।
হাফিজ নাঈমের দাবি, সরকার এক মাসের জন্য ২৫ বিলিয়ন রুপির ত্রাণ ঘোষণা করলেও জ্বালানির ওপর প্রতি মাসে এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ লেভি হিসেবে আদায় করছে। এ হিসাব তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবে এসেছে; সরকারি হিসাবের সঙ্গে তা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।
পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ২০ সেপ্টেম্বর করাচি থেকে ট্রেনযোগে ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে। মুলতান পর্যন্ত পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর ফোন আসে এবং এরপর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর তিনি জামায়াত আমিরের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবেন এবং আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচি নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন হাফিজ নাঈমুর রহমান। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে দলটির সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।