পেজেশকিয়ানের ‘মাথা নত নয়’ বার্তায় বাহুবলীর যুদ্ধের দৃশ্য, ভাইরাল
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘের ‘মাথা নত নয়’ বার্তাকে তুলে ধরতে প্রভাস অভিনীত ‘বাহুবলী’র যুদ্ধের দৃশ্য ব্যবহার করেছে ইরানের হায়দরাবাদ কনস্যুলেট।
আন্তর্জাতিক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে মার্কিন অস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের পর চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি মার্কিন আইনে নিষিদ্ধ।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে চীনে ফেরার পর ডেভিড পারডিউ ওই বৈঠকের প্রসঙ্গে ফক্স নিউজে কথা বলেন।
পারডিউ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রি করে—এমন প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প একপর্যায়ে শিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, চীনও মার্কিন অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না। তবে কখন এই প্রশ্ন করা হয়েছিল কিংবা শি এর জবাবে কী বলেছিলেন, তা তিনি জানাননি।
চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শির কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, বেইজিং নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পারডিউয়ের বক্তব্য প্রকাশের পরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি স্পষ্ট করে। একজন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন আইন চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে এবং চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো প্রস্তাব বা পরিকল্পনাও নেই।
ফলে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যটি কোনো আনুষ্ঠানিক অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগের ঘোষণা নয়। বরং ট্রাম্প-শি বৈঠকে এমন একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল—এমনটাই পারডিউয়ের বক্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে।
পারডিউ মূলত তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কথা বলার সময় চীনের সঙ্গে এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। ওয়াশিংটন তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা জোরদারে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। অন্যদিকে বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তাইওয়ান নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৬ সালে তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এর বাইরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চললেও সেটি স্থগিত রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চীনের কাছে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির নজির রয়েছে। তবে তা মূলত ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়কার। ১৯৯০ সালের পর চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই ট্রাম্পের শিকে করা প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মার্কিন সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান অনুযায়ী, চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই এবং দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি আইনগতভাবেও নিষিদ্ধ।