চার বছরের মধ্যে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ঢাকা: বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমের মতে, যত দিন সমাজের অস্তিত্ব থাকবে, তত দিন সমাজে অপরাধের উপস্থিতি অনিবার্য। তবে এই বাস্তবতা অনুধাবন করেই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত জনগণের জীবন ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান বাংলাদেশে অপরাধপ্রবণতা কেবল সাধারণ অপরাধের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও কাঠামোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে, যা আগামীর রাজনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত।
সিজার বেকারিয়ার অপরাধতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে, মানুষ সাধারণত ব্যক্তিগত ইচ্ছা (ফ্রি উইল) ও লাভ-ক্ষতির হিসাব কষেই অপরাধে জড়ায়। রাষ্ট্র যখন অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ এমনভাবে বাড়াতে ব্যর্থ হয়, যেখানে অপরাধীরা লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়, তখনই অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলে অপরাধীদের অনুপ্রবেশ এখন একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অপরাধীরা কেবল দলে যোগ দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করছে।
একসময় প্রবীণ কোনো রাজনীতিবিদ আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই, রাজনীতি চলে গেছে ব্যবসায়ীদের ও অপরাধীদের হাতে।” টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ বিক্রি এবং গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে শীর্ষ পদে ‘সিলেকশন’ বা মনোনয়নের সংস্কৃতি রাজনীতিকে চরমভাবে কলুষিত করেছে। এই সুযোগেই সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে এবং রাজনীতিবিদদের খুব সহজেই কবজা করে ফেলছে।
আমাদের সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম বড় নিয়ামক। একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জামিনে মুক্ত হয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পুনরায় পুরোনো অপরাধপ্রবণতায় (ক্রিমিনোজেনিক কালচার) জড়িয়ে পড়ছে। কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে। থানার অস্ত্র লুট হওয়া, অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং চাঁদাবাজিতে সামান্য বাধা পেলেই প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যা করার মতো ঘটনা সমাজকে গভীর আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে অপরাধীদের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বপালনকালে যাঁরা নিজেদের কর্তব্য থেকে চ্যুত হন, তাঁদের মাধ্যমেই সন্ত্রাসীরা অপকর্ম চালানোর সাহস পায়। এছাড়া সামাজিকীকরণ ও অনুশাসনের অভাব, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মহীনতা, বেকারত্ব এবং প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির অসঙ্গতির ফলে সৃষ্ট হতাশা বা বিচ্ছিন্নতাবোধ অনেক সময় মানুষকে অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের দিকে ঠেলে দেয়।
এই শৃঙ্খল ভাঙতে হলে সমাজের সর্বস্তরে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করে অপরাধীদের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে হবে এবং অপরাধের সব সুযোগ ও অস্ত্রের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত রাজনীতিতে অপরাধীদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। কোনো রাজনীতিবিদ সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনৈতিক দলে অর্থের অবৈধ প্রভাব ও জোগানদাতাদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি দূর করে সামাজিকভাবে অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল অঙ্গগুলো যদি নিরপেক্ষভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সদিচ্ছা নিয়ে দলীয় শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে, তবেই বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধের হুমকি থেকে মুক্ত হতে পারবে।