আন্তর্জাতিক: বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন প্রশাসনের তীব্র চাপের মুখে জরুরি ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) ফ্রান্সের প্রস্তাবিত একটি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়বে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উন্মুক্ত করবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে দামের পাগলা ঘোড়া থামানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল মজুত কমানোর কঠোর আহ্বান জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সাফ জানিয়ে দেয় যে, এই পদক্ষেপ না নিলে ওয়াশিংটন ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করবে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম যেকোনো মূল্যে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই অবস্থান নিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ইইউ দেশগুলো এই শর্তে মজুত ছাড়তে রাজি হয়েছে যে, এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহের সংকটের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কিছু তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এর ফলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ডিজেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ মজুত সুরক্ষিত রাখতে চীনের শোধনাগারগুলোও চলতি অক্টোবর মাসের জন্য জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করায় বিশ্ববাজারে ডিজেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর নেতারাও যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।