যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জরুরি ডিজেল বাজারে ছাড়াবে ইইউর
জ্বালানির দাম কমাতে মার্কিন প্রশাসনের চাপের মুখে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো। আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: সৌদি আরবের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করলে কিংবা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীর অবরোধ সরানোর চেষ্টা চালালে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত সব মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন গোষ্ঠীটির সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর।
চলতি মাসেই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা। এর পরপরই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে সৌদি আরব।
সাক্ষাৎকারে হুথির সামরিক উপদেষ্টা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর বলেন, “আমেরিকা যদি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার দুঃসাহস দেখায় কিংবা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা হবে চরম সীমা লঙ্ঘন। আমরা এর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়ব।” হুথিদের এই অবরোধের ফলে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব চরম অর্থনৈতিক বিপদের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের পর রিয়াদের অর্থনীতি এমনিতেই চাপে ছিল, যা হুথিদের এই পদক্ষেপে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মার্কিন বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে এই বিষয়ে হুথি উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা যদি বিমান হামলা বা আকাশপথে সহায়তা দিয়ে সৌদির পক্ষ নেয়, তবে আশপাশে থাকা যেকোনো মার্কিন স্বার্থকে তারা গুঁড়িয়ে দেবেন এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মার্কিন জাহাজের জন্য বাব আল-মানদেব প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।
ইরানের কাছ থেকে কোনো নির্দেশ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে সাওর বলেন, “ইরান আমাদের বন্ধু ও মিত্র দেশ, তবে তারা আমাদের পরিচালনা করে না। আমাদের সিদ্ধান্ত ও সার্বভৌমত্বে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন।” এদিকে ইয়েমেনের এই ভয়াবহ সংঘাতে আগামী কয়েক মাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সৌদি আরব হামলা বন্ধ না করলে তেল খাতসহ রিয়াদের অর্থনীতিতে আরও কঠোর আঘাত হানার হুশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা।