ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে ২৫৭ হামলা, ৭০০ নিহতের দাবি
ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২৫৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলের কাছে ছয় আরোহীসহ একটি মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিমানের সঙ্গে মাঝ আকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিমানটির ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বিমানে থাকা ছয়জনের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে। কানাডায় নিবন্ধিত গালফস্ট্রিম জি-১০০ উড়োজাহাজটি বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিমানটি পরিচালনা করছিল কানাডার অন্টারিওভিত্তিক ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ হারায়। পরে নানটাকেটের দক্ষিণে উড়োজাহাজটির সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড আকাশ ও সমুদ্রপথে অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযানে বিমান, হেলিকপ্টার ও নৌযান ব্যবহার করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। পরে অল্প সময়ের মধ্যে এর উচ্চতা প্রায় ১১ হাজার ফুটে নেমে আসে। বিমানটি বোস্টনে পৌঁছানোর কথা ছিল স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১টার দিকে।
দ্য বোস্টন গ্লোবের প্রকাশিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেডিও যোগাযোগ অনুযায়ী, বিমানের পাইলট বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানান এবং জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাইলটকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি ‘অন্ধভাবে’ উড়ছেন। এরপর বিমানটির সঙ্গে রেডিও ও রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটিতে দুই পাইলট, দুজন চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী এবং রোগীর একজন স্বজন ছিলেন। চারজন ক্রু কানাডার নাগরিক। রোগী ও তাঁর স্বজন ছিলেন বারমুডার নাগরিক।
মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি বিদেশে থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চিকিৎসার প্রয়োজনে স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হতো। উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর ছিল C-GRJP।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে নানটাকেটের উপকূলের কাছে একটি ধ্বংসাবশেষের এলাকা শনাক্ত করে উদ্ধারকারী দল। পরে কোস্টগার্ড নিশ্চিত করে, পাওয়া ধ্বংসাবশেষটি নিখোঁজ মেডিকেল উড়োজাহাজটিরই।
তবে ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত হওয়ার পরও ছয় আরোহীর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁদের সন্ধানে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটির কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিমানটির পাইলট বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং উড়োজাহাজটির উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছে।