আন্তর্জাতিক: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) আহ্বানে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে লংমার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এই লংমার্চের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, পিটিআইয়ের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজধানী সুরক্ষায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ইসলামাবাদে লংমার্চ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার।
সামা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টায় খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়। এতে ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু এবং লাক্কি মারওয়াত থেকে আসা খণ্ড মিছিলগুলো যোগ দেয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম রাতে কারাকের কাছে অবস্থান করার পর ৫ অক্টোবর কারাক থেকে কোহাটের উদ্দেশে যাত্রা করবে মিছিলটি। এরপর ৬ অক্টোবর কোহাট, হাঙ্গু, কুররাম ও ওরাকজাইয়ের অংশগ্রাহকরা যুক্ত হয়ে পেশোয়ারের মাতানি এলাকায় রাত কাটাবে। ৭ অক্টোবর পেশোয়ারের বুধ ভের ও খাইবার জেলার বিভিন্ন এলাকা হয়ে মিছিলটি চরসদ্দা ইন্টারচেঞ্জের দিকে অগ্রসর হবে। পরবর্তীতে ৮ অক্টোবর চরসদ্দা ও মোহমান্দের মিছিল যুক্ত হয়ে খাইরাবাদে জড়ো হবে, যেখান থেকে লংমার্চের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পরও সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা এবং প্রস্তাবিত লংমার্চ নিয়ে মতবিরোধের সমাধান হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে লংমার্চ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
লংমার্চ প্রতিরোধে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ইসলামাবাদে রেঞ্জার্স মোতায়েনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজধানীতে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার রেঞ্জার্স সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন পয়েন্টে কন্টেইনার বসানো হয়েছে। তবে পিটিআইয়ের দাবি, তাদের এই লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি তাদের রাজনৈতিক অধিকারের অংশ।