বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে, সীমিত রয়েছে দরপতন
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলেও মার্কিন ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাসের কারণে বড় দরপতন এড়ানো গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: শিক্ষার্থীদের চলমান তীব্র বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সের চার থেকে পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) এক দিনের জন্য আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশজুড়ে এক বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা সংকটে রূপ নিয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আজ সোমবার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই আন্দোলন রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মনপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, বহু স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় এবং বেশ কিছু স্কুল ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনের তথ্য অনুযায়ী, সহিংস বিক্ষোভে দেশটির ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে দেশজুড়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, উগ্র বামপন্থী কিছু রাজনৈতিক কর্মী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ঢুকে পড়ে তা হাইজ্যাক করেছে এবং চরম সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যা নজিরবিহীন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, শুধু গত শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু গত রোববার এক বক্তব্যে জানান, উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা বিভাগের কর্মীদের সমস্যা সমাধানে সরকার দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোর অবকাঠামো উন্নত করা, শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর করা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম আরও স্বচ্ছ করা এবং ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ে ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া।
তবে সরকারের এসব আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় আন্দোলনকারীরা। উল্টো আগামী মঙ্গলবারও আরও কঠোর কর্মসূচি নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত এই ছাত্রবিক্ষোভ থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।