আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে দেশটির দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বড় ধরনের দরপতন আপাতত সীমিত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা ২২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩১ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিন মার্কিন ডলার সূচক ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর আগে গত শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে এবং আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পে-রোলের হিসাবও বড় আকারে সংশোধন করা হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শ্রমবাজারের দুর্বল এই তথ্য চলতি অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারকে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, অক্টোবরে ফেডের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যদিও ডিসেম্বরে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। এর আগে গত মাসে ফেড দীর্ঘ তিন বছর পর নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছিল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলায় স্বর্ণের বাজারেও এর অস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও জি-৭ দেশগুলোর পক্ষ থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে।
মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে রুপার স্পট মূল্য ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৯৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৬ দশমিক ১৮ ডলার হলেও প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৯৬৫ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।