আন্তর্জাতিক: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) বন্দরনগরী করাচির বিভিন্ন এলাকায় পিটিআই নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, পিটিআইয়ের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে করাচির সাতটি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দলটির মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধান ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগের অবসান।
বিক্ষোভ ঠেকাতে রবিবারে নির্ধারিত স্থানগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ায় নগরীর কড়াঙ্গি, করাচি ইস্ট ও করাচি ওয়েস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার কথা বলে করাচি প্রেস ক্লাব ও ‘রেড জোন’ভুক্ত এলাকাগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পুলিশের কঠোর বাধার মুখেও কড়াঙ্গীর বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন পিটিআই করাচির সভাপতি ফাহিম খান, সিন্ধুর অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ান নিয়াজি এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ওভাইস চৌধুরী। এছাড়া এমপ্রেস মার্কেটের নিকটবর্তী বিক্ষোভে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
পিটিআইয়ের দাবি, করাচির বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী কর্মীও রয়েছেন। এছাড়া সিন্ধুর সুক্কুরসহ অন্যান্য এলাকা থেকেও নেতাকর্মীদের আটকের অভিযোগ করে দলটি জানিয়েছে, পুরো প্রদেশে আটক পিটিআই নেতাকর্মীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পিটিআই-সিন্ধুর মুখপাত্র মুহাম্মদ আলী বেলুচ বলেছেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশ দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন সিন্ধু সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অপরাধে রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার করা সম্পূর্ণ অন্যায়। তিনি অবিলম্বে সব আটক পিটিআই নেতার মুক্তিসহ প্রেস ক্লাব সিলগালা করার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তবে পিটিআইয়ের এই ব্যাপক ধরপাকড় ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংবাদমাধ্যম থেকে যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।