স্বামী ঘুরতে নিয়ে যান না, বিচ্ছেদের আবেদন শারজাহর নারীর
অবসরে স্বামী তাকে বাইরে ঘুরতে বা বেড়াতে নিয়ে যেতে আগ্রহী নন—এমন অভিযোগে শারজাহর এক নারী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। পারিবারিক পরামর্শ বিভাগ তাকে সমঝোতার পরামর্শ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক: ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দেশের অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকার। অন্যদিকে, এই অভিযানের প্রাক্কালে হুতি বিদ্রোহীরা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে আরও গভীরে প্রবেশ করেছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘিরে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এক সরকারি বিবৃতিতে এই সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। পুরো ভূখণ্ডে বৈধ রাষ্ট্র ও এর প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে। সম্প্রতি হুতিদের আকস্মিক ও তীব্র অভিযানে লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মানদেব প্রণালি’র আশপাশের বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি সূত্র জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি এমন একটি কৌশলগত সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যা তাইজ শহরকে সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সঙ্গে সংযুক্ত করেছিল। এই পথ বন্ধ হওয়ার পরপরই সরকারি বাহিনী সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা দেয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর তীব্র রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে উভয় পক্ষে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকা দখল করে প্রধান সড়ক ও থানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং সেখানে এখনো তুমুল সংঘর্ষ চলছে।
সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা সত্ত্বেও সরকারি বাহিনী হুতিদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা রোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এরই মধ্যে গত রবিবার হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের উপকণ্ঠে এবং কুরাইশ এলাকার সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
এর আগে হুতিদের দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে এবং তারই পাল্টা জবাবে এই জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে সৌদি আরব ইতিমধ্যে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে, যার ওপর হুতিদের এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।