আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ মেসির
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ক্যারিয়ার শেষ করছেন লিওনেল মেসি। ম্যাচ নিয়ে নিজেদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন বেনিন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ তিজানি। ক্রীড়া সংবাদ।
স্পোর্টস: জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন উশুর উদীয়মান খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার। তাঁর হাত ধরেই গেমসে একমাত্র ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে বাংলাদেশ। জাপান থেকে দেশে ফেরার পর এই কৃতি ক্রীড়াবিদকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ব্যক্তিগতভাবে জিন্নাতকে এক লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন এবং তাঁকে স্থায়ী ক্রীড়া ভাতার আওতাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (পহেলা অক্টোবর বা সাম্প্রতিক সময়ে) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে আয়োজিত এক জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিন্নাতের গলায় এশিয়ান গেমসের সেই ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদকটি নতুন করে পরিয়ে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিশেষ স্মারক উপহার দেওয়া হয়। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে জিন্নাত প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতা পাবেন। তবে এই ভাতার মেয়াদ বহাল রাখতে প্রতি চার মাস পরপর তাঁর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে।
জিন্নাতের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যেমন আশার আলো জ্বেলেছে, তেমনি বড় বড় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া অন্যান্য ডিসিপ্লিনের চরম ব্যর্থতাকেও প্রকট করে তুলেছে। জিন্নাতদের মতো দেশের হাজার হাজার ক্রীড়াবিদ আজও প্রয়োজনীয় অনুশীলনের সুবিধা, আধুনিক সরঞ্জাম কিংবা পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবের মতো নানা সংকটের মধ্যে লড়াই করে যাচ্ছেন। অথচ এর বিপরীতে ক্রিকেট, আরচারি কিংবা শুটিংয়ের মতো ডিসিপ্লিনগুলোতে সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার কমতি না থাকলেও আন্তর্জাতিক আসরে তাদের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিশেষ করে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া সত্ত্বেও আরচারি দল কিংবা দেশের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্রিকেটারদের মধ্যে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে খেলার ক্ষেত্রে একধরনের অনীহা ও সিরিয়াসনেসের অভাব দেখা গেছে বলে কঠোর সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া কাবাডিতেও দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখা যায়নি; জাপানের মতো দলের কাছে হেরে পদক হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ দল। টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো ইভেন্টগুলোতেও কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিত এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে আসছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ এই যাত্রায় দেশের পক্ষে প্রথম পদক আসে ১৯৮৬ সালে, যখন বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন মোশারফ হোসেন। এরপর ১৯৯০ সালের পুরুষ কাবাডিতে প্রথম রৌপ্য পদক অর্জন করে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে রৌপ্য, ১৯৯৮ সালে ব্রোঞ্জ, ২০০২ ও ২০০৬ সালে রৌপ্য পদক আসে। ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে স্বর্ণ এবং নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে ক্রিকেটে রৌপ্য ও নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ এবং ২০২২ সালের আসরে পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল ব্রোঞ্জ পদক জয় করে।
সর্বশেষ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে উশুর কৃতি কন্যা জিন্নাত আক্তারের এই ব্রোঞ্জ পদক দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন এক প্রেরণা জোগাল। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, বরং সামগ্রিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব এবং সঠিক পরিকল্পনা না আনলে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।