জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা (জোর করে ঠেলে পাঠানো) তিন ভারতীয় যুবককে আটকের পর পুনরায় ভারতীয় সীমান্তে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও প্রথম দফায় কোনো সুরাহা হয়নি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্প ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, ভোরে আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ২৭৬ নম্বর মূল পিলারের নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে তিন যুবককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরবর্তীতে ওই যুবকরা সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। এ সময় তাঁদের চলাফেরা ও পরনের ভেজা কাপড় দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তিন যুবককে ২৭৬ নম্বর মূল পিলারের কাছে নিয়ে যান এবং পতাকা ও কড়া প্রতিবাদের মাধ্যমে তাঁদের ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
এই অননুমোদিত পুশইন ও সীমান্ত ঘটনার জেরে আজ বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া ক্যাম্পের মধ্যে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথম দফার ওই বৈঠকে কোনো সুরাহা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রথম দফার পতাকা বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় পরবর্তীতে আরও কয়েক ঘণ্টা পর আবারও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, ২৭৬ নম্বর মূল পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কের ওপর বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বেশ কিছু সতর্ক স্থানীয় বাসিন্দা পাহারা দিচ্ছেন এবং ওই তিন যুবক তখন আন্তর্জাতিক সীমানার ওপারে ভারতীয় অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব হোসেন জানান, ওই তিনজনের পরনের কাপড় সম্পূর্ণ ভেজা থাকায় তাঁদের সন্দেহ হয় এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সব খুলে বলেন। সীমান্তে এই অনধিকার প্রবেশের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা বিরাজ করছে।