ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের আকস্মিক কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল থেকে হাংমাড়া মসজিদ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এই আতঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল থেকেই একটি পাগলা কুকুর খোলাপাড়া, রাজা খাঁ, দামচাইল, সাদেকপুর এবং হাংমাড়া মসজিদ এলাকার পথেঘাটে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই কামড়াতে শুরু করে। এভাবে একের পর এক সাধারণ মানুষকে আহত করার পর স্থানীয়রা একত্র হয়ে হাংমাড়া মসজিদের সামনে কুকুরটিকে ঘেরাও করেন এবং পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কেবল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালেই ১৩ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নেন।
ঘটনার তীব্রতা ও রোগীর চাপ বিবেচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালীর নির্দেশে সোমবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের ওআরটিসি (ORTC) বিভাগ খুলে দেওয়া হয়। হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসী বেগম জানান, রাতেই সেখানে আসা ২০ জন আহত ব্যক্তিকে র্যাবিক্স-ভিসি (Rabix-V) ও র্যাবিক্স-আইজি (Rabix-IG) টিকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো আহত ব্যক্তি হাসপাতালে এলে তাঁকেও প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান জানান, সাদেকপুর থেকে টেলিফোনে বহু মানুষকে কুকুরে কামড়ানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্কের টিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী আশ্বস্ত করে বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কুকুরের কামড় বা আঁচড় লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কুকুরে কামড়ানোর পর ক্ষতস্থান তাৎক্ষণিকভাবে সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার প্রাথমিক পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।