আন্তর্জাতিক: যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে সেখান থেকে নিজেদের প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিমানঘাঁটিটি থেকে বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রথম নিশ্চিত করে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, একটি নির্দিষ্ট ‘হুমকি’র বিষয়ে জানতে পেরেই তাঁরা বোমারু বিমানগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “সেখানে কিছু হুমকি ছিল। শত্রুকে প্রলুব্ধ করার চেয়ে তাদের বন্দী করা এবং পরাস্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু শুধু শুধু আমরা বিমানগুলোকে কেন ওখানে ফেলে রাখব? তাই আমরা সেগুলোর অবস্থান কিছুটা বদলেছি।”
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ওই বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহভাজন যান’ নিয়ে পুলিশের তৎপরতা ও একটি বড় ধরনের ঘটনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্লুস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ওই ঘটনাটি বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ষষ্ঠ এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। প্রথম পাঁচজন মুক্তি পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, এ ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ‘নিট প্রমাণ’ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও এ ঘটনার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে তেহরান এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে গত জুলাই মাসে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানোর জন্য ব্যবহার করা যেকোনো ঘাঁটিকে তাদের বাহিনী বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে।
ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণ নিয়ে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর লক্ষ করা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যেখানে সুনির্দিষ্ট একটি হুমকির দিকে ইঙ্গিত করছেন, সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টিকে রুটিন কাজের অংশ হিসেবে দেখছেন। রুবিও জানান, নিয়মিত মহড়া বা সামরিক সরঞ্জাম অদলবদলের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অন্যদিকে ভ্যান্স একে ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ডাউনিং স্ট্রিট এর আগে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে দাবি করলেও, বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত আকাশপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা কিছুটা কমবে, যা সাময়িকভাবে আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামাতে পারে।