শাপলা চত্বর মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ নভেম্বর
শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ১ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
খুলনা: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থা রক্ষা করতে এর আশেপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা ২৪টি বাণিজ্যিক রিসোর্টের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) এ ধরনের রিসোর্ট পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি না থাকায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, “পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনোভাবেই রিসোর্ট পরিচালনা করা আইনসম্মত নয়। নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্বে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আমরা আইনগতভাবে এই কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছি।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া এই ২৪টি রিসোর্টের মধ্যে।
খুলনায় ১৮টি
বাগেরহাটে ২টি
সাতক্ষীরায় ৪টি
পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ঘেঁষে রিসোর্ট নির্মাণ ও পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের কারণে বনের সংবেদনশীল প্রকৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে আসছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, “সুন্দরবন সেন্টমার্টিনের চেয়েও বেশি স্পর্শকাতর ও জটিল বাস্তুসংস্থানের অধিকারী। বনসংলগ্ন এলাকায় একের পর এক রিসোর্ট এবং অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনা, শব্দ ও আলো বন্যপ্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি।” এছাড়া রিসোর্টগুলোর অপরিকল্পিত বর্জ্য খালের মাধ্যমে বনে প্রবেশ করে পরিবেশ নষ্ট করছে বলে জানান তিনি।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, রিসোর্টগুলোর কারণে বনের ওপর চাপ বাড়লেও এগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় বন বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে এগুলো নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন শাওন দাবি করেন, “এই রিসোর্টগুলো সুন্দরবনের ভেতরে নয়, বরং বনের বাইরে সংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পর্যটকেরা বনে প্রবেশ না করে স্থানীয় জনপদে থেকে কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে গ্রামীণ সংস্কৃতি উপভোগ করেন। এগুলোকে পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে দেখানো একপাক্ষিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত।” এই খাতের সুরক্ষায় স্পষ্ট ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম মনে করেন, পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের পাশাপাশি বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সুনির্দিষ্ট প্রভাব নিরূপণ (Impact Assessment) ও কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে এর সমাধান করা উচিত।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জে ‘টাইগার পয়েন্ট’ নামক একটি রিসোর্ট নির্মাণের মাধ্যমে সুন্দরবন ঘেঁষা অঞ্চলে বাণিজ্যিক রিসোর্ট সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অসংখ্য রিসোর্ট গড়ে ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন—উভয়ের মধ্যে সঠিক সমন্বয় সাধনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।