রিয়াদের বাদশাহ খালিদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদি আরবের রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব ধ্বংস হওয়ার পর বর্তমানে দেশটি আসলে কারা পরিচালনা করছে, ওয়াশিংটন তা জানে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে এই অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “তাদের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন, দ্বিতীয় সারির নেতারাও নেই। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দেশটি এখন কে পরিচালনা করছে তা কেউ জানে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি স্থলাভিষিক্ত হলেও তিনি এখনো জনসম্মুখে আসেননি, যা ওয়াশিংটনের মনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে। তবে এই দাবির বিপরীতে ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় যাওয়ার আগে তেহরানকে ‘সহজ পথ নাকি কঠিন পথ’ বেছে নেওয়ার হুমকি দিয়ে জানান, ইরানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। এছাড়া কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ত্যাগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন অনিশ্চয়তা ও মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই ওয়াশিংটনের এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থা এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব কারা করছেন, তা আমেরিকা ভালোভাবেই জানে। প্রকৃত সমস্যা মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও বিভ্রান্তিকর বার্তার মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘এক্সিয়োস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাম্প ডেভিডে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলায় জড়াবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটবে—তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে তীব্র আলোচনা চলছে। অন্যদিকে রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানি কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে এবার কঠোর ও ব্যাপক পাল্টা জবাব দেওয়ার পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।