নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত: ট্রাম্প
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নোবেল কমিটি তাঁকে পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক: ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল সোনালি নগ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ডেনিশ শিল্পী জেনস গালশিওটের তৈরি ব্যঙ্গাত্মক এই ভাস্কর্যের নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। এটি ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও পরিচিত। ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো ভাস্কর্যটির উচ্চতা প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা সাড়ে আট ফুট।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের স্ট্রাসবার্গ ভবনে ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। পার্লামেন্টের একটি ব্যস্ত সংযোগস্থলে তিন দিনের প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এটি রাখা হয়েছে। ডেনমার্কের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লসেন প্রদর্শনীটির আয়োজক।
ভাস্কর্যে নগ্ন ট্রাম্পকে তুলনামূলক ছোট ও দুর্বলদেহী এক ব্যক্তির কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর এক হাতে রয়েছে গলফ ক্লাব এবং অন্য হাতে ন্যায়বিচারের পাল্লা। নিচে থাকা ব্যক্তিটির পায়ের কাছে রাখা হয়েছে গলফ বলের আকৃতির একটি পৃথিবীর প্রতিরূপ।
ভাস্কর্যের বেদিতে একটি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যও লেখা রয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, ট্রাম্পের ভারে নিচের ব্যক্তি তলিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাঁকে সাহায্য করার কথা বলা হলেও তাঁর পিঠ থেকে নামার কোনো ইচ্ছা নেই।
শিল্পীর মতে, এই উপস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষমতা, বৈশ্বিক রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাবকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
জেনস গালশিওট বলেছেন, ট্রাম্পের নীতি আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার জন্য বড় হুমকি বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, এসব বিষয়ে কথা বলা এবং ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
শিল্পী জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এম্পেরর’স নিউ ক্লোদস’ থেকে অনুপ্রাণিত। গল্পটিতে একজন দাম্ভিক সম্রাটকে সবাই পোশাক পরা মনে করলেও শেষ পর্যন্ত একটি শিশু প্রকাশ করে যে তিনি আসলে নগ্ন। গালশিওটও তাঁর ভাস্কর্যের মাধ্যমে ক্ষমতাবানদের নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও চাটুকারিতাকে প্রশ্ন করতে চেয়েছেন।
ডেনিশ এমইপি পার ক্লসেন ভাস্কর্যটির প্রদর্শনকে সমর্থন করেছেন। ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এমন একটি রাজনৈতিক শিল্পকর্ম প্রদর্শন সহ্য করতে না পারলে বিশ্বমঞ্চে থাকার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
তবে ভাস্কর্যটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নয়; এটি একজন শিল্পীর রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং একজন এমইপির আয়োজিত প্রদর্শনীর অংশ।
‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ এটি প্রদর্শন করা হয়। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনেও ভাস্কর্যটি দেখা যায়। স্ট্রাসবার্গের প্রদর্শনীর পর আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে এটি আবার প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্ট্রাসবার্গে ভাস্কর্যটি বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।