আন্তর্জাতিক: ইরান ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁকে পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গে বলেন, কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, নোবেল কমিটির ‘তাঁর মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার একটি পরিচিতি রয়েছে।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষণা করার কথা রয়েছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকার কারণে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।
সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তবে নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত তথ্য ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে এসব কথিত মনোনয়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্প যেসব সংঘাত নিরসনে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন, সেগুলোর কয়েকটির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে আবারও সহিংসতা দেখা দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেরও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ইরান ইস্যুতেও ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে সামরিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই পদক ট্রাম্পকে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মাচাদো ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তাঁকে পুরস্কারের যোগ্য বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, আগেরবার তিনি ‘পরোক্ষভাবে’ সম্মানিত হয়েছিলেন।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে কমিটি কোনো মনোনীত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে না। বিভিন্ন ব্যক্তি বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত মনোনয়নকে তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায় না।
পুরস্কারের সম্ভাব্য আলোচনায় ট্রাম্পের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে পুরস্কার দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিই নেবে।