প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকার: হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ অক্টোবরের জাপান সফরে দ্বি-পাক্ষিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রাধান্য পাবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র সার্বিক বিষয়টিকে বাংলাদেশ অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত শান্তিরক্ষা অভিজ্ঞতার সম্ভাব্য অবদানের ওপর ভিত্তি করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে মূল বক্তার বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর আলোচনা চলছে। চুক্তিটি যদি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ অনুকূলে থাকে এবং শান্তিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা যদি পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ মুসলিম দেশগুলোর কল্যাণ ও মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সব ধরনের পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ যৌথভাবে ‘ফ্রম ওয়ার্কফোর্স টু স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রিম্যাজিনিং বাংলাদেশ-কেএসএ রিলেশনস’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও প্রকাশ করেন যে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের রাজকীয় বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুবিধাজনক সময়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি সম্পন্ন করবেন। একই সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সও বাংলাদেশ সফরের অকৃত্রিম আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই প্রস্তাবিত শীর্ষ সফরগুলো দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন ধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
ঐতিহাসিক এই সম্পর্কের দিগন্ত সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কেবল প্রথাগত শ্রম অভিবাসন ও রেমিট্যান্স পাঠানোর কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সৌদি আরবের রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক রূপান্তরের মেলবন্ধন ঘটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক বন্দর, লজিস্টিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে একটি বিশেষ যৌথ ‘বিনিয়োগ তহবিল’ গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।