আইএমএফের সঙ্গে জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে: অর্থমন্ত্রী
আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ঢাকা: দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে কোনো জায়গা নেই। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া সভা শেষ হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটে। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
বৈঠক সূত্রের বরাতে জানা যায়, সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন, এমনকি সংসদ সদস্যরাও নন। কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা কর্মীবান্ধব না হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সভায় দলের নেতাকর্মী, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ওঠা দখল, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। কেউ অপকর্মে জড়ালে তাঁকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও শোনেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে প্রস্তুতি, সাংগঠনিক ঐক্য এবং প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সংসদ সদস্য জানান, সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী কাজ হয়েছে, সেসব কাজের অগ্রগতি কতটা এবং বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।
সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সভায় জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জনগণের সঙ্গে থেকে কাজ করার এবং জনগণকে সন্তুষ্ট রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাধারণত জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর আগের দিন বা অধিবেশন শুরুর দিন সংসদীয় দলের এ ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভাব্য সংসদ অধিবেশনের আগেই বিশেষ এ সভা আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।