নির্ধারিত সময়ের আগেই খালি হলো সাজেক, পূজার মুখে উদ্বেগে পর্যটন ব্যবসায়ীরা
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার এক দিন আগেই ১,১৪১ জন পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগে আপাতত সাজেক ভ্রমণ বন্ধ। পার্বত্য সংবাদ।
আইন-শৃঙ্খলা: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সারাদেশে উৎসবমুখর, আনন্দঘন ও নিরাপদে উদযাপনের লক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, পূজামণ্ডপ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন থাকবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালীন টানা সাত দিন সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও পূজামণ্ডপগুলোতে এই বিপুল পরিমাণ বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব যেন সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এর অংশ হিসেবে থাকবে নিয়মিত মোবাইল টহল, জোরদার গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা যেন না হয়, সেদিকে বিজিবির তীক্ষ্ণ নজর থাকবে। যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবির অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক জানান, দেশের সীমান্ত এলাকার ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ সারাদেশে মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এছাড়া পার্বত্য, দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারি নির্দেশিকা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার আলোকে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে কৌশলগত টহল, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ বিবৃতির শেষ অংশে তিনি বলেন, “দুর্গাপূজা আমাদের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে তাঁদের উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত রয়েছে।”