সচিবালয়ে দুপুর ১২টার আগে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ, নির্দিষ্ট হলো পাসের কোটা
সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে দুপুর ১২টার আগে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও মন্ত্রী-সচিবদের জন্য দর্শনার্থী পাসের সীমা বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় সংবাদ।
জাতীয়: দুর্যোগপরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে ও টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আগাম সচেতনতা এবং পারিবারিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রথম আঘাতটি আসে পরিবার ও বসতবাড়ির ওপর। তাই একটি শতভাগ দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতার বিকল্প নেই এবং দেশের প্রতিটি ঘরকেই দুর্যোগ মোকাবিলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ন আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশকে একটি অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ দেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে দিন দিন যুক্ত হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব।
সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হিমবাহধসে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি দেশের অর্থনীতি, জীবন ও জীবিকাকে কতটা তছনছ করে দিতে পারে, নেপালের এই সাম্প্রতিক বিপর্যয় তা চোখের সামনে প্রমাণ করে দিয়েছে।”
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এখন আন্তর্জাতিকভাবে চরম উদ্বেগের বিষয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা একেবারেই নগণ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার হতে হচ্ছে এ দেশের নিরীহ মানুষকে। জলবায়ুজনিত ঝুঁকির কারণে ভবিষ্যতে দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষকে চরম খেসারত দিতে হতে পারে এবং দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অতীতের অর্জন ও সক্ষমতার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি বলেন, এখনো এই খাতে উন্নয়নের অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় জীবন বাজি রেখে কাজ করা সম্মুখসারির যোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য এখন পর্যন্ত দেশে সুনির্দিষ্ট কোনো আইনি কাঠামো নেই। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবকদের আইনি অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নীতি-বহির্ভূত অব্যবস্থাপনার কারণেই মূলত ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে আবাসন নির্মাণের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখা এবং পরিবেশ দূষণ বন্ধের মাধ্যমে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কমিয়ে আনার জোর আহ্বান জানান তিনি।