কুমিল্লায় প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ফজরের নামাজ শেষে হাঁটার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঝরনা বেগম নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা সংবাদ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম: রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত বেধে দেওয়া সময়ের একদিন আগেই সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছেড়েছেন সেখানে অবস্থানরত সব পর্যটক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই দফায় মোট ১ হাজার ১৪১ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক অবস্থান করছেন না।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রথম দফায় সাজেকের বিভিন্ন কটেজ ও রিসোর্টে অবস্থানরত ৮৫৮ জন পর্যটক এস্কর্টের মাধ্যমে এলাকা ছাড়েন। পরবর্তীতে বেলা আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় দফায় আরও ২৮৩ জন পর্যটক সাজেক ত্যাগ করেন।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনার এক দিন আগেই দুই দফায় সাজেক ছেড়ে যান সব পর্যটক। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে গত রোববার সন্ধ্যা থেকে পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। একই সঙ্গে আগামী ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টার মধ্যে অবস্থানরত সব পর্যটককে সাজেক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত রোববার ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাজেক সড়কে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সাজেক ভ্রমণরত শত শত পর্যটক আটকা পড়েন। পরবর্তীতে বিকাল ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারী নেতাদের দীর্ঘ ফলপ্রসূ আলোচনার পর তাঁরা দুই দিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে সম্মত হন। এরপরই আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে প্রশাসন।
পর্যটন খাত বন্ধ থাকায় শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কটেজ মালিকেরা।
সুপর্ণ দেববর্মন আরও জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটির দিনগুলোর জন্য সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোর প্রায় শতভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং করা ছিল। হঠাৎ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণার ফলে বুকিং বাতিল হওয়ায় রিসোর্ট মালিকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।