সচিবালয়ে দুপুর ১২টার আগে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ, নির্দিষ্ট হলো পাসের কোটা
সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদারে দুপুর ১২টার আগে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও মন্ত্রী-সচিবদের জন্য দর্শনার্থী পাসের সীমা বেঁধে দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় সংবাদ।
জাতীয়: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রবেশাধিকার সুসংহত ও সুনিয়ন্ত্রিত করতে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের (এমপি) ব্যক্তিগত গাড়িতে কেবল তাঁদের নিজস্ব ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) এবং গাড়িচালক ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি থাকছে না।
গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের নিরাপত্তা জোরদারকরণ ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের সময় সর্বোচ্চ তাঁদের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) এবং একজন চালককে সাথে রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র ও অনুমোদনের কাগজাদি শতভাগ যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তি বা বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়টি সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। অনেক সময় একটি গাড়িতে চার থেকে পাঁচজনকে নিয়ে সংসদ সদস্যরা প্রবেশ করতেন, যাদের সবার প্রাসঙ্গিক কাজ বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন আছে কি না তা যাচাই করা ডিউটিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত।
বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের গাড়িতে থাকা এসব অতিরিক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা অনেক সময় কঠোর পদক্ষেপে যেতে দ্বিধাবোধ করতেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সচিবালয় দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী কেন্দ্র, যেখানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের স্পর্শকাতর দপ্তর অবস্থিত। যথাযথ যাচাইকরণ ব্যতীত অননুমোদিত ব্যক্তির অবাধ প্রবেশ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণেই এমপিদের গাড়িতে প্রবেশকারীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করার পাশাপাশি কঠোর পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।