দারিদ্র্য দূরীকরণে সাশ্রয়ী আবাসন ও আর্থিক কাঠামো সংস্কারের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক কাঠামো সংস্কারের আহ্বান জানান।
ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধ থাকা ত্রিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দীর্ঘ তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং আটক এক প্রবীণ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার পর বুধবার মস্কো এই অবস্থানের কথা জানায়। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর ইউক্রেন যুদ্ধের আশু অবসান বা চূড়ান্ত কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ইউক্রেন ও ইউরোপের পক্ষ থেকে আসা শান্তি প্রস্তাবগুলোতে কাজের মতো উল্লেখযোগ্য কোনো সারবস্তু বা বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা নেই।
মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের বিশেষ সহযোগী ইউরি উশাকভ বার্তা সংস্থাকে জানান, নীতিগতভাবে রাশিয়া আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই এই আলোচনা পুনরায় জোরদার হতে পারে, যেখানে রাশিয়া যুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রধান এজেন্ডা হিসেবে রাখতে চায়। একই সাথে আগামী মাসে চীনের শেনজেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের অংশগ্রহণে এক ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে বলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন কাটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। কূটনৈতিক এই সংলাপ ও আলোচনার আবহ তৈরির মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রাধীন অঞ্চলে ডেন হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। উভয় পক্ষই রণক্ষেত্রে হামলা জোরদার রাখার পাশাপাশি কৌশলগত আলোচনার টেবিল সচল রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও যুদ্ধের স্থায়ী নিষ্পত্তিতে এখনও জটিল কূটনৈতিক পথ বাকি রয়ে গেছে।