অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডের কাছে হারল বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে কুইন্সল্যান্ড নারী দলের কাছে বৃষ্টি আইনে ৭২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
স্পোর্টস: নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের স্বপ্ন ইনজুরির কারণে মাঝপথেই থেমে গেলেও থামেনি ক্রিকেটের প্রতি তার অফুরন্ত ভালোবাসা। ঢাকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শেখ জামাল ও কলাবাগানের মতো ক্লাবে খেলা সাদ্দাম হোসেন মিঠু এখন নিজ জন্মভূমি চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে তরুণ প্রতিভা অন্বেষণ ও জাতীয় মানের ক্রিকেটার তৈরির মিশনে ব্রতী হয়েছেন। নিজের জমানো স্বপ্ন আর একাগ্রতাকে পুঁজি করে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি’ এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এসপিএল)’।
দীর্ঘ সাত-আট বছর ঢাকা লিগে নিয়মিত খেলেছেন সাদ্দাম। কিন্তু ২০২২ সালে ঢাকা লিগে খেলার সময় অনুশীলনে বলের আঘাতে তার নাভি ফেটে যায়। এর ফলে এক বছরের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। আর এই বিরতিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সাদ্দাম বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল জাতীয় পর্যায়ে দেশের হয়ে খেলা। ইনজুরি আমাকে থামিয়ে দিলেও আমি হাল ছাড়িনি। আমার লক্ষ্য, তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় মানের ক্রিকেটার বের করে আনা। সেই উদ্দেশ্যেই একাডেমি করেছি।” আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু হলেও ২০১৮ সাল থেকেই তিনি এই মিশন নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে তার এই একাডেমিতে বিনা খরচে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৪০ জন উদীয়মান ক্রিকেটার। ইতোমধ্যে একাডেমির চার তরুণ ক্রিকেটার চলতি মৌসুমে ঢাকা তৃতীয় বিভাগ কোয়ালিফাইং ক্রিকেট লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছেন এবং চাঁদপুর জেলার মূল দলেও নিয়মিত খেলছেন।
খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাদ্দাম। নিজের অর্থায়নে প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ করে সূচিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের একটি পুকুর ভরাট করে গড়ে তুলেছেন খেলার মাঠ। এছাড়া নিজ উদ্যোগে চালু করেছেন জনপ্রিয় টেপ টেনিস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট—‘শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এসপিএল)’। ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টের তিনটি সফল আসর সম্পন্ন হয়েছে এবং ডিসেম্বরে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে চতুর্থ আসর।
প্রথম আসরে প্রায় ১৩ লাখ, দ্বিতীয় আসরে ৩২ লাখ এবং তৃতীয় আসরে ৪০ লাখ টাকা খরচ হওয়ার পর চতুর্থ আসরের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে ‘গাড়ি’ দেওয়ার আকর্ষণীয় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা নিয়ে সাদ্দাম জানান, ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ নেওয়া হয় না; বরং ক্রিকেটপ্রেমী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে স্পনসর করেন। শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই তিনি এই টুর্নামেন্ট পরিচালনা করেন বলে জানান।
শাহরাস্তিকে ক্রিকেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করতে চান সাদ্দাম। এসপিএলের প্রতিটি আসরেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ তারকারা উপস্থিত থেকেছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শামীম পাটোয়ারীর মতো জাতীয় দলের তারকারা মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেছেন। টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাবেক তারকা ইমরুল কায়েস।
শুধু একাডেমি বা টুর্নামেন্ট নয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তিনি চাঁদপুর জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের চাঁদপুর জেলা দলের ম্যানেজার ও শাহরাস্তি দলের হেড কোচের দায়িত্বে থেকে দলকে ফাইনালে তুলেছেন। এছাড়া তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত নানা টুর্নামেন্টে ট্রফি ও জার্সি দিয়ে উৎসাহিত করে চলেছেন সাদ্দাম। স্থানীয় সংসদ সদস্য মমিনুল হক, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থনে তিনি শাহরাস্তিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা আঁতুড়ঘরে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন।