ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিরসনে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ঢাকা: ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি আধুনিক উড়োজাহাজ কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় জায়ান্ট এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহরে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তি অনুযায়ী মোট ১০টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
৪টি প্রশস্ত কাঠামোর (ওয়াইড বডি) এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ, যা দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
৬টি সরু কাঠামোর (ন্যারো বডি) এ৩২১নিও উড়োজাহাজ, যা আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে পরিচালনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি অনুযায়ী ২০৩৩ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত তা বিমানের বহরে যুক্ত হবে। তবে গোপনীয়তার কারণে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ে মোট কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ বা এয়ারবাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঐতিহাসিক এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকেও মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা) ১৪টি এবং গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে বহরে যুক্ত হওয়া শুরু হবে এবং সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে। তবে চুক্তি হলেও সম্পূর্ণ মূল্য একবারে পরিশোধ করতে হবে না; বরং প্রতিটি উড়োজাহাজ হস্তান্তরের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। এর আগে জরুরি চাহিদা মেটাতে বিমান কর্তৃপক্ষ অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৪টি বোয়িং ও ৫টি ড্যাশ-৮ সহ মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল এবং বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বয়সসীমা পেরিয়ে বহর থেকে বাদ পড়ার কথা রয়েছে। এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে এবং ভবিষ্যতে সব মিলিয়ে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।