পরোক্ষ আলোচনা চলছে, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: মালয়েশিয়া থেকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে এ পর্যন্ত ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো রোহিঙ্গা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার ইব্রাহিম এসব কথা বলেন। এর এক দিন পর বুধবার মিন অং হ্লাইং মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফরে পৌঁছেছেন। প্রত্যাবাসন তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামা।
আনোয়ার জানান, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে আকাশ ও সমুদ্রপথে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। সর্বশেষ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এটি প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানোর একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। তবে ওই দফায় কোনো রোহিঙ্গা ছিল না বলে স্পষ্ট করেছেন আনোয়ার।
তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিয়ানমারের নাগরিক—আরাকান, কারেন, শান ও রোহিঙ্গা—অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়নি।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও তুলবেন তিনি। মিয়ানমার সরকারের কাছ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফেরত নেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে মানবিক আচরণের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যাঁরা ইতিমধ্যে ফেরত গেছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সম্মতি দিয়েছেন এবং তাঁদের সম্মতির নথিও নেওয়া হয়েছে। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
মিয়ানমারে এখনো চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে মানুষকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের কেউ কেউ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তায় থাকতে পারেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচও মালয়েশিয়াকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য নাগরিককে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, মিয়ানমারে চলমান মানবাধিকার সংকটের মধ্যে এ ধরনের প্রত্যাবাসন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এর আগে সতর্ক করে বলেছে, মিয়ানমারে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক ও শরণার্থী অবস্থান করছেন। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে; তাঁদের বড় অংশই মিয়ানমার থেকে আসা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গা।
মালয়েশিয়া জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের পক্ষভুক্ত নয়। ফলে দেশটিতে শরণার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জাতীয় আইনি কাঠামো এখনো নেই এবং তাঁদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের বর্তমান মালয়েশিয়া সফরে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।