পরোক্ষ আলোচনা চলছে, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি বি. কাগন এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোই। অণুর ‘মিরর-ইমেজ’ বা পরস্পরের দর্পণ-প্রতিচ্ছবি রূপের রহস্য উন্মোচন এবং নির্দিষ্ট একটি রূপ তৈরির রাসায়নিক পদ্ধতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কাগনের বয়স ৯৫ বছর এবং সোইয়ের ৭৬ বছর। তাঁরা যৌথভাবে নোবেল পদক ও পুরস্কারের অর্থ পাবেন।
জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক অণু দেখতে একই রকম হলেও বাস্তবে তারা একে অপরের দর্পণ-প্রতিচ্ছবি হতে পারে। মানুষের ডান ও বাঁ হাতের মতো এই দুই রূপকে রসায়নে চিরাল বা অসমমিত রূপ বলা হয়।
জীবদেহে অনেক ক্ষেত্রে এই দুই রূপের মধ্যে কেবল একটি ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে কেন এমন হয় এবং কীভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে কাঙ্ক্ষিত একটি রূপ তৈরি করা যায়—এটি রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল।
কাগন ও সোইয়ের গবেষণা এ সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁদের কাজ এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া তৈরির পথ দেখিয়েছে, যার মাধ্যমে একটি অণুর নির্দিষ্ট দর্পণ-প্রতিচ্ছবি রূপ অন্যটির তুলনায় বেশি পরিমাণে উৎপন্ন করা সম্ভব।
এই গবেষণার গুরুত্ব বিশেষভাবে দেখা যায় ওষুধশিল্পে। একই রাসায়নিক পদার্থের দুই দর্পণ-প্রতিচ্ছবি রূপের শরীরে ভিন্ন প্রভাব থাকতে পারে। একটি রূপ কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে, অন্যটি ভিন্ন বা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে নির্দিষ্ট একটি অণুর কাঙ্ক্ষিত রূপ বেছে নিয়ে তা তৈরি করার সক্ষমতা নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোবেল কমিটির ব্যাখ্যায়, এ ক্ষেত্রেই কাগন ও সোইয়ের গবেষণার বড় অবদান রয়েছে।
ষাটের দশকের থ্যালিডোমাইড কেলেঙ্কারিও এ ধরনের অণুর গুরুত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ওই ওষুধের একটি দর্পণ-প্রতিচ্ছবি রূপ জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পরবর্তী গবেষণায় এ ধরনের অণুর ভিন্ন রূপের ভিন্ন জৈবিক প্রভাবের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
এ গবেষণার ইতিহাস আরও পুরোনো। উনিশ শতকে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে গবেষণার সময় অণুর অসমমিত বা দর্পণ-প্রতিচ্ছবি বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। সেই গবেষণা পরবর্তী সময়ে অণুর চিরালিটি নিয়ে বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর কাগন ও সোইয়ের গবেষণা রাসায়নিক বিক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট দর্পণ-প্রতিচ্ছবি তৈরির দিকে পরিচালিত করার কার্যকর পদ্ধতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দেয়।
২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াগি। ধাতু-জৈব কাঠামো বা মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOF) উন্নয়নের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়।
২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল ঘোষণার মাধ্যমে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিজয়ীদের নাম প্রকাশ হলো। নোবেল পুরস্কারের পদক ও সম্মাননা অনুষ্ঠান ঐতিহ্য অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হবে।