রজনীকান্তের জেলার ২’-এ বাদ গেল ১০০ মিনিটের বেশি দৃশ্য
রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। সিনেমাটির প্রাথমিক দৈর্ঘ্য ছিল ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, সম্পাদনার পর তা কমিয়ে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ক্রীড়া: পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছেন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রায় ২ হাজার শব্দের দীর্ঘ এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ক্যাম্প ছাড়ার কারণ, কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিস্তারিত এবং পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। রোনালদো স্পষ্ট বলেছেন, তাঁর আচরণের জন্য কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে শাস্তি দেওয়া উচিত।
তবে একই সঙ্গে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। বরং শাস্তি শেষ হওয়ার পর শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেললে পর্তুগালের হয়ে আবার মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোনালদো জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের সমর্থকদের উদ্দেশে জাতীয় দল থেকে অবসরের একটি চিঠি লিখে রেখেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পথে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।
এরপর নতুন কোচ হিসেবে জর্জ জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে রোনালদোর মতামত জানতে চাওয়া হয়। রোনালদো জানান, তিনি জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন। পরে জেসুস দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকেও বসেন তিনি।
রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে জেসুস তাঁকে নিজের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন। শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রতি ম্যাচে কয়েকটি পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান কোচ।
তবে ওই বৈঠকেই জেসুস তাঁকে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে জাতীয় দলের সঙ্গে না যাওয়ার একটি প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন রোনালদো। পরিকল্পনা ছিল, তিনি প্রথম ম্যাচটি খেলে পর্তুগালে থেকে যাবেন এবং পরে পোর্তোর এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
রোনালদো জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, বিদেশের ম্যাচে না গিয়ে দেশে থেকে বাড়তি সুবিধা নেওয়া অধিনায়ক হিসেবে ভালো দৃষ্টান্ত হতো না। শেষ পর্যন্ত জেসুসও তাঁর যুক্তির সঙ্গে একমত হয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে ৩০ মিনিট খেলানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তিনি ওয়ার্মআপ করলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি।
রোনালদো দাবি করেন, এতে তিনি মনে করেন কোচ তাঁর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রাখেননি। পরে জেসুসের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক হয়, যেখানে আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনিও উপস্থিত ছিলেন। ওই আলোচনায় বিষয়টি প্রকাশ্যে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, সে বিষয়ে একটি সমঝোতাও হয়েছিল বলে জানান রোনালদো।
রোনালদোর দাবি, আট দফার একটি নোটও তৈরি হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ থাকার কথা ছিল—তিনি কখনো নির্দিষ্ট সময় খেলার দাবি করেননি, কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছেন এবং তাঁকে ওয়ার্মআপ করিয়ে মাঠে না নামানোটি ছিল ভুল।
কিন্তু পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জেসুসের বক্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত আলোচনার সঙ্গে মিলেনি বলে অভিযোগ করেন রোনালদো। তাঁর ভাষায়, এটিই ছিল কোচের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ দ্বিতীয় ঘটনা। এরপর আর অপেক্ষা না করে ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন রোনালদো। সতীর্থ ও পর্তুগালের সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে ফেডারেশনের কাছে নিজের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তাঁর মতে, তিনি সাধারণ একজন খেলোয়াড় নন; জাতীয় দলের অধিনায়ক। তাই নেতৃত্বের জায়গা থেকে তাঁর এই ভুলকে আরও গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
রোনালদো বলেন, কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মর্যাদা বা অবস্থান যতই উঁচু হোক, নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। তাই তাঁর ক্ষেত্রেও শাস্তিতে কোনো ছাড় থাকা উচিত নয়।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থাকলেও তিনি আপাতত অবসরের ঘোষণা দেননি। বরং শাস্তি শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা স্পষ্ট করেছেন।
রোনালদোর বক্তব্য, তিনি শারীরিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকলে, আল নাসরের হয়ে নিয়মিত খেললে এবং গোল করতে পারলে শাস্তি শেষে আবার পর্তুগালের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত থাকবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
এদিকে রোনালদোর অভিযোগের বিষয়ে কোচ জর্জ জেসুস ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ফলে দুজনের ব্যক্তিগত আলোচনায় কী হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।