রজনীকান্তের জেলার ২’-এ বাদ গেল ১০০ মিনিটের বেশি দৃশ্য
রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। সিনেমাটির প্রাথমিক দৈর্ঘ্য ছিল ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট, সম্পাদনার পর তা কমিয়ে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ক্রীড়া: একটি দীর্ঘ ও বর্ণিল অধ্যায়ের শেষ হলো। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থরা ছুটে এসে ঘিরে ধরলেন লিওনেল মেসিকে। কেউ জড়িয়ে ধরলেন প্রিয় অধিনায়ককে, কেউ কাঁধে হাত রেখে স্মরণীয় করে রাখলেন বিদায়ের মুহূর্ত। গ্যালারিজুড়ে করতালি আর ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেললেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি।
বিদায়ী ম্যাচটিও নিজের মতো করেই রাঙিয়েছেন মেসি। একটি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলেও সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর ৬০ মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ।
এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলে বল নিয়ে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১ মিনিটে স্পটকিক থেকে বল জালে পাঠিয়ে বিদায়ী ম্যাচে নিজের গোলের খাতা খোলেন তিনি।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল মেসির ১২৬তম গোল।
শেষ বাঁশি বাজার পর ম্যাচের ফল যেন গৌণ হয়ে যায়। পুরো স্টেডিয়ামের মনোযোগ তখন মেসিকে ঘিরে। সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরে বিদায়ের মুহূর্ত উদযাপন করেন। প্রতিপক্ষ বেনিনের খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তারাও এগিয়ে এসে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে অভিনন্দন জানান।
মেসির মুখেও তখন স্পষ্ট ছিল আবেগের ছাপ। ম্যাচ শেষে গ্যালারির দিকে হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদন জানান তিনি।
বিদায়ী অধিনায়ককে সম্মান জানাতে ম্যাচ শেষে আয়োজন করা হয় বিশেষ ড্রোন শো। রাতের আকাশে ফুটে ওঠে ‘Gracias Leo’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’ বার্তা।
জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান নিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেন মেসি।
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতা এই তারকার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার তাই কেবল পরিসংখ্যানের গল্প নয়। দীর্ঘ সময়ের সাফল্য, ব্যর্থতা, সমালোচনা এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসে নিজের আলাদা অধ্যায় তৈরি করেছেন মেসি।
জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটি তাই একটি ম্যাচের সমাপ্তির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তির মুহূর্ত হয়ে থাকল।