ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিরসনে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অর্থনীতি: প্রায় তিন বছর পর আবারও শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠক। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নানা বাধা, পাটজাত পণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনসহ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বৈঠকে তুলছে বাংলাদেশ।
১৬তম এই বৈঠক বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে। দুই দিনের বৈঠকটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর করা, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং দুই দেশের মধ্যে পণ্যের স্বাভাবিক চলাচলের বিষয়ও আলোচনায় আসার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বৈঠকটি মূলত আলোচনাভিত্তিক; এখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নাও আসতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি প্রায় ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।
ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। দেশটি থেকে শিল্পের কাঁচামাল, সুতা, তুলা, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা তাই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগও নানা বিধিনিষেধ ও জটিলতার মুখে পড়ে। প্রায় তিন বছর পর জেডব্লিউজিটির বৈঠক হওয়াকে তাই দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য বাধা কমানো ও রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতীয় পক্ষ কী কী বিষয় আলোচনায় তুলবে, তা বৈঠকের আগে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
দুই দিনের এই বৈঠকের মাধ্যমে স্থলবন্দর, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং পাটপণ্যের অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কসহ বিদ্যমান বাণিজ্যিক জটিলতাগুলো সমাধানের বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে ব্যবসায়ী মহলের।