মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের এ উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিশেষ প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, প্রদর্শনী চলাকালে প্রকল্পের মূল গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান প্রধানমন্ত্রীকে জানান, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
গবেষণাগারে নিবিড় পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য থেকে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে উচ্চমানের ডিজেলসমৃদ্ধ উপাদান বিদ্যমান। উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী এর দ্রুত বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
গবেষক দল প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি আধুনিক পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রযুক্তিটির প্রকৃত কার্যকারিতা, উৎপাদন খরচ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করা যাবে। আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে দেশে আমদানিকৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দেশীয় বায়োক্রুড দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে। এর ফলে বছরে আনুমানিক সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই প্রযুক্তি বৃহৎ পরিসরে রূপায়ন করা গেলে তা দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনের পাশাপাশি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক বিপ্লব ঘটাবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে, পরিবেশ দূষণ কমবে এবং দেশে নতুন সবুজ জ্বালানি শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পরিদর্শনের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।