জরুরি তেলের মজুত হ্রাস ও ঋণ বৃদ্ধি, বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের চরম সতর্কতা
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬’ প্রতিবেদনে তেলের মজুত হ্রাস ও সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর ধারাবাহিক ও ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় পুরো সৌদি আরবজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়ে গেছে, যার ফলে মারাত্মক এভিয়েশন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) এয়ার ডেটা নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরটিতে নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলার ক্ষয়ক্ষতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার কাজ চলমান থাকায় সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিসিএএ) সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিতের এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে।
বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়াম’-এর উপাত্ত অনুযায়ী, গত সোমবার সৌদি আরবের মোট ১ হাজার ৪৮টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৪৮৬টি ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে, যা তাদের দৈনিক সূচির প্রায় ৪৬ শতাংশ। পরিস্থিতি বিশ্লেષণে দেখা গেছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে রোববারের প্রায় সব ফ্লাইট এবং সোমবারের আনুমানিক ৭৮ শতাংশ সেবা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা।
এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো রিয়াদ ও এর আশপাশের অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে:
লুফথানসা গ্রুপ: ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম: চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ফিলিপাইন এয়ারলাইন্স: আগামী ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে।
ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
ফ্লাইদুবাই: ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রেখেছে।
ডেল্টা এয়ারলাইন্স (যুক্তরাষ্ট্র): আগামী ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের আটলান্টা-রিয়াদ পথ চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন বিমানবন্দরটির টার্মিনাল-৪ এ অপর একটি প্রক্ষেপকের আঘাতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হন। এই হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি এয়ারবাস এ৩২০ বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা এভিয়েশন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সৌদি আরবে আটকা পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিকল্প বিমান চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর (FCDU) তাদের নাগরিকদের বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা জর্ডান হয়ে সড়কপথে নিরাপদে দেশ ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ইউরোপের ইএএসএ (EASA) মধ্যপ্রাচ্যের এই আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে।