নির্ধারিত সময়ের আগেই খালি হলো সাজেক, পূজার মুখে উদ্বেগে পর্যটন ব্যবসায়ীরা
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার এক দিন আগেই ১,১৪১ জন পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগে আপাতত সাজেক ভ্রমণ বন্ধ। পার্বত্য সংবাদ।
ফরিদপুর: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া এবং সরঞ্জাম কেনাকাটায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব যন্ত্র দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চালু না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করার চাঞ্চল্যকর সত্যতা পেয়েছে দুদকের একটি বিশেষ টিম।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল হাসপাতালে এই দীর্ঘ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন মালামাল ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনকালে তারা দেখতে পান কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি ক্যাথল্যাব যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘ফিলিপস ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে যন্ত্রটি কেনা হয় এবং ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এটি হাসপাতালে পৌঁছায়। হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম ও হার্টে রিং পরানোর মতো জটিল চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য এটি কেনা হলেও প্রায় এক দশকেও যন্ত্রটি সচল করা হয়নি।
হাসপাতালের ইলেকট্রো-মেডিকো টেকনিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম জানান, চুক্তি অনুযায়ী যন্ত্রটি স্থাপন করে চালু করার দায়িত্ব ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মেশিন চালু না করেই ঠিকাদারকে শতভাগ বিল পরিশোধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ চলতি ২০২৬ সালের ১১ মার্চও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অভিযান চালিয়ে দুদক দল হাসপাতালের ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চরম হয়রানি, টাকা ছাড়া ট্রলি সেবা না পাওয়া, তীব্র ওষুধ সংকট এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযানের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া এবং কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে আমরা এই অভিযান চালিয়েছি। ক্যাথল্যাবসহ কেনাকাটার পুরো নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দ্রুতই প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।”