বিশ্ব

‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে ৯৫০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি সরকারি বাহিনীর

আন্তর্জাতিক: ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৃহৎ সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ (ফজর আল-ইয়েমেন) এ পর্যন্ত ৯৫০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ৩৮০টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

বুধবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর সরকারি মুখপাত্র কর্নেল মজিদ আল-নুজাইলির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মজিদ আল-নুজাইলি জানান, সরকারি বাহিনী বিভিন্ন সামরিক ফ্রন্টে ইতোমধ্যে মোট ১ হাজার ৮৭৯টি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামানের গোলা, রকেট লঞ্চার এবং সুনির্দিষ্ট স্নাইপার ইউনিট ব্যবহার করে হুথিদের শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যূহ, মূল কমান্ড সেন্টার, গোপন অস্ত্রাগার ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

তবে ইয়েমেন সরকারের এই দাবির বিষয়ে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফজর আল-ইয়েমেন’ বা ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে এই বিশেষ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। অভিযানের মূল কৌশলগত লক্ষ্য হলো হুথিদের দখলে থাকা রাজধানী সানাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ও প্রদেশ পুনরুদ্ধার করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিবেশ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের হুথি অভ্যুত্থানের পূর্ণ অবসান ঘটানো।

বর্তমানে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের প্রণালী ‘বাব এল-মানদেব’-কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লড়াই চরম আকার ধারণ করেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব এল-মানদেব, ধুবাব এবং মোখা উপকূলীয় এলাকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করলেও হুথিরা শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছে।

২০১৪ সালে ‘আনসারুল্লাহ’ নামে পরিচিত হুথি বিদ্রোহীরা আকস্মিকভাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিলে এই দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করে। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী এর আগেও বিভিন্ন অভিযানে বহু সংখ্যক হুথি যোদ্ধা এবং অন্তত ১৮০টি সামরিক যান ধ্বংসের তথ্য প্রকাশ করেছিল।

Related News

জরুরি তেলের মজুত হ্রাস ও ঋণ বৃদ্ধি, বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের চরম সতর্কতা

আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬’ প্রতিবেদনে তেলের মজুত হ্রাস ও সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ৩ বছরের চুক্তিতে সই করল উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ও যৌথ সহায়তা বৃদ্ধিতে ৩ বছর মেয়াদী দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদ।

ভারতের আন্দোলনে বাংলাদেশের উসকানি ও অর্থায়নের অভিযোগ দিলীপ ঘোষের

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে চলা আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা ও বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ করেছেন দিলীপ ঘোষ। আন্তর্জাতিক সংবাদ।

যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢোকায় সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক

দিল্লির যন্তর মন্তরের বন্ধ গেট টপকে ঢোকায় ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ।

রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল

হুথি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও ব্যাপক এভিয়েশন সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ।

ইরানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প

ইরানের নেতৃত্ব লক্ষ্য করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেছে এবং কার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে তা চিহ্নিত করতে ওয়াশিংটন হিমশিম খাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদ।

দিল্লির পর কলকাতায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল, মমতার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা

নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত।

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড

২০২৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিনির্ধারণে তাদের গবেষণার অবদান জানুন।

Search