‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে ৯৫০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি সরকারি বাহিনীর
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে চলা ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে ৯৫০ জন নিহত ও ৩৮০টি সামরিক যান ধ্বংসের দাবি করেছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ইতিবাচক টিকে থাকলেও কমে আসছে জরুরি জ্বালানি তেলের মজুত। একই সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিকট ভবিষ্যতে নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি তার সহনশীলতার চরম সীমায় পৌঁছে যেতে পারে বলে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত আইএমএফের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনা ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (World Economic Outlook – October 2026) সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই চরম ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরা হয়।
আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিগত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সামরিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব যতটা আশঙ্কাজনক ও মারাত্মক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বৈশ্বিক অর্থনীতি তা তুলনামূলকভাবে সফলভাবে সামলে নিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নীতিগত সুবিধা এবং যে পরিমাণ জরুরী কৌশলগত জ্বালানি মজুত ব্যবহার করা হয়েছে, তা বর্তমানে শেষ বা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে বিকল্প লজিস্টিক পথ ব্যবহার করে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বজায় রাখা এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত (Strategic Petroleum Reserves) থেকে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল মুক্ত করার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এই সুরক্ষা বলয় এখন অনেকটাই নিঃশেষিত।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি দ্রুত জ্বালানির সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে না পারে এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত প্রস্তুতি পুনরায় পুনর্গঠন না করে, তবে আগামী দিনে অর্থনৈতিক সহনশীলতা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়বে। মজুত কমে যাওয়ায় নতুন কোনো সংঘাত বা সরবরাহ শৃঙ্খলে (Supply Chain) সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেই বিশ্ববাজারে হু-হু করে তেলের দাম বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের লাগাম টানতে গত মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের ইতিহাসে বৃহত্তম জরুরি তেলের মজুত উন্মুক্ত করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিল। পরবর্তীতে গত সেপ্টেম্বরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জ্বালানিমন্ত্রীদের বিশেষ শীর্ষ বৈঠকের পর এই জরুরি তেল মুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।