আলোকিত সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম বললেন ত্রাণমন্ত্রী।
লালমনিরহাটে ‘আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খেলাধুলা ও সুস্থ মানসিকতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
প্রশাসন: বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়ন লটারির মাধ্যমে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তাঁর ভাষ্য, যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক জায়গায় কর্মকর্তাদের পদায়ন করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে লটারির মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী ও অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, এর আগে লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর বদলি-পদায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
এবার ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে লটারির আওতায় আনা হচ্ছে। সব বিভাগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পদ আপাতত এ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হচ্ছে।
জাকারিয়া তাহের বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের পদায়নের ক্ষেত্রে চাকরির অতীত রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পর এ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কারও বিশেষ প্রয়োজন থাকলে মানবিক বিবেচনায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে। কাউকে হয়রানি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। বরং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও মানবিক প্রক্রিয়ায় বদলি-পদায়ন সম্পন্ন করাই লক্ষ্য।
তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন প্রয়োজন। এ জন্য কর্মকর্তাদের বিভিন্ন শ্রেণি ও ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জোনের মধ্যেও লটারির ব্যবস্থা করা হতে পারে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পের কারণে যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চান বলে জানান জাকারিয়া তাহের। তাঁর মতে, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কার্যক্রম নিয়েও কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমঝোতা করা হবে না এবং শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর জমি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একটি ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের মেয়াদের মধ্যে যতটা সম্ভব ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কোথায় কত জমি রয়েছে, কোন জমি দখলে আছে এবং কোনগুলো দখলের বাইরে—এসব তথ্য চিহ্নিত করা হবে। তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী। কে আবাসন পাচ্ছেন আর কে পাচ্ছেন না—এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকায় বরাদ্দপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।