১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির ‘অপারেশন নারকোটিক্স স্ট্রাইক’ অভিযানে ইস্কাপ ও ফেয়ারডিল সিরাপসহ ১৭০৬ পিস ইয়াবা জব্দ।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকার মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত পর্যটন এলাকায় অবস্থিত একটি কাঠের তৈরি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জনের প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬ জন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন সদস্য রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে আনুমানিক সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট’ নামক কাঠের তৈরি তিনতলা স্থাপনাটিতে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন পুরো রিসোর্টের প্রতিটি কক্ষে ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কাঠের তৈরি স্থাপনা হওয়ায় আগুন দ্রুত পুরো রিসোর্টটিকে গ্রাস করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যদের সাথে নিয়ে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টার পর বেলা এগারোটার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং রিসোর্টটিতে থাকা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও গ্যাস সিলিন্ডার পর্যায়ক্রমে বিস্ফোরিত হলে আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় কাঠের তৈরি এই রিসোর্টটির মোট নয়টি কক্ষে সর্বমোট ১৭ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
আগুনের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান। সর্বশেষ রিসোর্টটির বাথরুম বা টয়লেট থেকে আরও চারজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ জনে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছরের শিশু ফায়িজান আহমেদ। বাকি চার নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে, আহতদের মধ্যে ডা. শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)-কে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এই তদন্ত কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং রিসোর্টটির ফায়ার সেফটি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে।