সম্পাদকীয়

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বিজয়: ড. খলিলুর রহমানের হাত ধরে নতুন দিগন্ত

বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হলো। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ভোটাভুটিতে সাইপ্রাসের শক্তিশালী প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের এই বিশাল ও ঐতিহাসিক জয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এই বিজয় কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং তা বিশ্বমঞ্চে নতুন বাংলাদেশের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির এক অনন্য স্বীকৃতি।

ড. খলিলুর রহমানের এই অনন্য সাধারণ অর্জনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই এক বিজ্ঞপ্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাষ্ট্র ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

একই সাথে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবিসহ দেশ-বিদেশের বহু উচ্চপদস্থ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁদের উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন। এই গৌরবময় অর্জন বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান এবং গ্রহণযোগ্যতারই এক অনন্য প্রতিফলন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তিনি বিশ্বদরবারে অত্যন্ত গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক ও যৌথ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় পারস্পরিক যোগাযোগ, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবেন। এই নতুন ও মহৎ দায়িত্বে তাঁর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।”

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। চার দশক পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই গৌরবময় প্রত্যাবর্তন আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র ও দূরদর্শী কূটনীতির প্রতি বৈশ্বিক আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।”

বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন ও রাষ্ট্রদূতদের পক্ষ থেকে পাঠানো যৌথ বার্তায় বলা হয়েছে,

“বিশ্বের একটি অন্যতম প্রধান শান্তি রক্ষাকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময়ই জাতিসংঘের নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ড. খলিলুর রহমানের দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ৮১তম সাধারণ অধিবেশন বৈশ্বিক সংকট নিরসনে এক নতুন মাত্রা পাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আসন। বাংলাদেশের জন্য এই গৌরব একেবারে নতুন নয়। এর আগে আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের লাল-সবুজ পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘ চার দশক পর, ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ড. খলিলুর রহমানের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া সেই ঐতিহাসিক সাফল্যেরই এক গৌরবময় পুনরাবৃত্তি।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে এখন বিশ্বমানবতার পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার এক বিশাল সুযোগ ও দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন বিশ্বমঞ্চে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারবে। একই সাথে বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ড. খলিলুর রহমানের এই সভাপতির আসনটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

একটি গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যখন ভেতরের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুশাসনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাইরের বিশ্বমঞ্চ থেকে আসা এই ঐতিহাসিক সুসংবাদ দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সুর মিলিয়ে আমরাও মনে করি, এই কূটনৈতিক বিজয় দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে। ড. খলিলুর রহমানের এই আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বলতর করুক এবং বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক—আজকের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Related News

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ: সাইবার নিরাপত্তায় লাল সংকেত নাকি সময়োচিত সতর্কতা? -রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধের নেপথ্য কারণ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা-বাগেরহাট সফর সম্পন্ন; আঞ্চলিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সমাপ্তি, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

মোংলা থেকে উপকূলের জাগরণ — প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন সফর নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশ্লেষণাত্মক কলাম।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার — সম্প্রীতির বাংলাদেশ রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

মহানবমীতে তিন বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক পূজা মণ্ডপ সফর ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

নাগরিকত্বই পরিচয়, ধর্ম নয় – তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের বার্তা। -রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

প্রধানমন্ত্রীর দুর্গোৎসব সফর, সেনাবাহিনীতে ওআরওপি সুবিধা এবং বর্তমান রাষ্ট্রদর্শন নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের নিবন্ধ।

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের তাৎপর্য- রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার দিক নির্দেশনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের নিবন্ধ।

ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিন আজ, ২০২৭ সালের চেয়ারম্যানশিপ পেল পাকিস্তান

থাইল্যান্ডে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভা শেষ। ২০২৭ সালের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যানশিপ পেল পাকিস্তান। ব্যাংকক থেকে রিপোর্ট।

ব্যাংককে বিশ্ব অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: সংস্কারের শর্তে বাংলাদেশের সামনে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ-রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সম্মেলনে বাংলাদেশের ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।

Search