আন্তর্জাতিক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় বিকেলে দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা।
দুই নেতা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। বৈঠকটি এমন সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নতুন করে সক্রিয় হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছে। তবে কয়েক মাস ধরে আলোচনায় অগ্রগতি সীমিত ছিল। এর মধ্যে চলমান ইরান যুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বেড়েছে।
জেলেনস্কি নিউইয়র্কে পৌঁছে বলেছেন, যুদ্ধের অবসান এবং ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষাই তাঁর দেশের প্রধান অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজনা কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রস্তাব ও পদক্ষেপ নিয়ে কাজ চলছে।
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৃষ্ণসাগরসংলগ্ন লক্ষ্যবস্তুতে পারস্পরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ইউক্রেনের জ্বালানি খাত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও খাদ্য রপ্তানিকে রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু না করার বিনিময়ে কিয়েভও পাল্টা উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠকের আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া তার ডিজেল ও তেল পরিশোধন শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার অনেক তেল শোধনাগার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কিছু প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে রয়েছে। শক্তিশালী উত্তেজনা প্রশমনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরু করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের হামলা অব্যাহত থাকায় ওই উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় নিউইয়র্কের বৈঠকে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে নতুন কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হয় কি না, সেটিই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সরাসরি শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা রাশিয়া ও ইউক্রেনকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা বৃদ্ধি এবং আলোচনায় মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।