শরৎ বিষুব আজ, দিন-রাত প্রায় সমান
২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৬ মিনিটে শরৎ বিষুব সংঘটিত হয়েছে। উত্তর গোলার্ধে শুরু হয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শরৎকাল, তবে বাংলাদেশে বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী শরৎকাল এরই মধ্যে চলছে।
ঢাকা: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআইভুক্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেদের মালিকানাধীন গণপরিবহণে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, সরকারের ওপর দায় চাপানো এবং বিমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নাশকতাকারীরা রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল ব্যবহার করতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশঙ্কা করছে। দ্রুত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার এই কৌশল ঠেকাতে রাজধানীর প্রান্তিক ও প্রবেশমুখের এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও এবং পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের শেষ অংশে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, এসব এলাকার ঘনবসতি, রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ এবং দ্রুত আত্মগোপনের সুযোগ থাকায় নাশকতার পর জড়িতদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা গণপরিবহণে আগুন দিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকিতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অর্থ জোগান ও ইন্ধনের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই গোষ্ঠীর কয়েকজন শীর্ষ নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করে দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ পাঠাচ্ছেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও সাইমুন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সাইমুনকে শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিচয় ও অভিযোগ পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে; মামলার বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।
এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নাশকতা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মালিবাগ, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। আগারগাঁওয়েও বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠায় এবং পরে রিমান্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর রাজধানীর প্রবেশমুখ, গণপরিবহণ, রেলস্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।